Pages

শুক্রবার, ৪ এপ্রিল, ২০১৪

*****ইসলাম বিষয়ে যারা কথা বলতে চান সেইসব ইসলামিক ছাত্রছাত্রীদের জন্য ১১ টি টিপস........

**** ইসলাম বিষয়ে যারা কথা বলতে চান  সেইসব ইসলামিক ছাত্রছাত্রীদের জন্য ১১ টি টিপস****

০১।অল্প কয়েকবছর পড়াশোনাই করেই নিজেকে ‘পন্ডিত’ ভাববেন না। অন্যদের ওপর নিজের মতামত চাপিয়ে দিতে চেষ্টা করবেননা। কিংবা আপনার সাথে কারো মতামত না মিললে তাকে ‘ভ্রান্ত পথযাত্রী’ বলে ঘোষনা দেওয়াও বোকামি। আর ‘আল্লাহই ভালো জানেন’ বলতে ভুলবেন না।
“অতএব যদি তোমরা না জান তবে যারা স্মরণ রাখে তাদেরকে জিজ্ঞেস কর”।(সূরা আম্বিয়া ৭)

০২। আদব ও সৌজন্যতা বোধ থাকতে হবে। মানুষের সাথে সুন্দর ব্যবহার করুন, সুন্দর ভাবে কথা বলুন। আপনি কাউকে ‘গালি’ দিলে সে ইসলাম সম্পর্কে ভূল মেসেজ পাবে। সহিষ্ণুতা অবলম্বন করুন। মনে রাখবেন, “মুসলিম ঐ ব্যক্তি যার কোন কথা ও কাজের দ্বারা অন্য মুসলিমের কষ্ট না ঘটে.........” (সহীহ বুখারী)। ভদ্র ‘ভাষা’ ব্যবহার করুন। “ আর তারা আল্লাহকে ছেড়ে যাদের পূজা করে তোমরা তাদেরকে গালি দিওনা, কেননা তাহলে তারা সীমালঙ্ঘন করে অজ্ঞতা বশতঃ আল্লাহকে গালি দেবে.........” (সূরা আল আন’আম ১০৮)।

০৩। শুধুমাত্র শিক্ষাই কাউকে পাপমুক্ত করেনা। কেউ কেউ মনে করে শুধুমাত্র ইসলামী শিক্ষা তাকে পাপ থেকে দূরে রাখবে। “আল্লাহর কাছে এটা অত্যন্ত অপছন্দনীয় কাজ যে তোমরা এমন সব কথা বলে বেড়াবে- যা তোমরা করবে না!” (সূরা ছফ ০৩)। আসলে যারা ইসলামী শিক্ষা গ্রহণ করতে চায়, তাদেরকে শয়তান আরো বেশী পরিমাণে কু-মন্ত্রণা দেয়। তাই ‘শিখুন’ এবং ‘পালন’ করুন।

০৪। লোকজন আপনাকে বিচার করবে। যখনই কেউ ইসলাম সম্পর্কে কথা বলবে, কিংবা পড়াশোনা করবে। তখনই লোকজন তাদের ভূল ধরতে ব্যস্ত হয়ে পড়বে। তাদের পোশাক-চাল-চলন নিয়ে কথা বলবে। এতে ভেঙ্গে পড়ার কিছু নেই। আপনি আপনার কাজ করুন। “(হে নবী, এদের) তুমি বলো, তোমরা (ভালো) কাজ করো.........(৯,১০৫)।

০৫। আপনি আপনার ‘বিশ্বাসের’ প্রতিনিধিত্ব করছেন। লোকজন আপনাকে দিয়ে ‘ইসলাম’ কে বিচার করবে। তাই, এমন কাজ করবেননা যা তাদের মধ্যে ‘ভূল’ কনসেপ্ট তৈরী করে।

০৬। আপনাকে পরীক্ষা করা হবে। কেউ যদি মনে করে, তিনি ইসলামের জন্য কথা বার্তা বলেন কিংবা ইসলামিক অনুশাসন মেনে চলেন বলে আল্লাহ তাঁর জীবন সহজ করে দিবে। এই কনসেপ্ট ভূল। বরং ইতিহাস বলে, সত্যিকার মুসলিমদের জীবন হয় চ্যালেঞ্জিং। “আমি তোমাদের পরীক্ষা করে থাকি মন্দ ও ভালো দিয়ে ...............” (২১; ৩৫)

০৭। ইসলামিক শিক্ষা ‘শেষ’ মনে করা উচিত না। এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। সর্বদা বলুন, “রাব্বি যিদনী ইলমান” (হে আমার মালিক! আমার জ্ঞান বৃ্দ্ধি করে দিন) –সূরা ত্বা হা ১১৪

০৮। আপনি সবাইকে পরিবর্তন করতে পারবেননা। অনেক লোকজন আপনার বিরুদ্ধে বলবে, আপনাকে ‘গালাগালি’ করবে। আপনাকে ‘নাস্তিক’ উপাধি দিবে কিংবা ‘ভ্রান্ত’ উপাধি দিবে। তাদের জন্য আল্লাহর কাছে ‘হেদায়াত’ প্রার্থনা করুন। আপনার কাজ হচ্ছে পৌঁছে দেয়া।

০৯। আপনি ভূল করবেন, এটিই স্বাভাবিক। শয়তান আপনাকে উতসাহিত করবে। পথ হারাবেননা। আল্লাহর কাছে ‘ক্ষমা’ প্রার্থনা করুন। মনে রাখবেন, ‘ভূল’ আদম আঃ এবং ইবলিশ উভয়ই করেছিল। পার্থক্য এটাই আদম আঃ অনুতপ্ত হয়েছে, ফিরে এসেছে, বলেছে, “রাব্বানা যলামনা আনফুছানা অইল্লাম তাগফিরলানা অতারহামনা লানাকূনান্না মিনাল খাছিরীন” (হে আমাদের রব! আমরা আমাদের ঊপর জুলুম করেছি, যদি আপনি আমাদের ক্ষমা না করেন এবং আমাদের প্রতি দয়া না করেন, তবে অবশ্যই আমরা ক্ষতিগ্রস্থদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে পড়ব” (সূরা আল আ’রাফ-২৩) কিন্তু ইবলিশ অহংকার করেছে।

১০। আপনার জন্য অনেক বড় পুরষ্কার অপেক্ষা করছে। আপনি হয়তো জানেননা। আল্লাহর উপর ভরসা করুন। মুমিনদের তো শুধুমাত্র আল্লাহর ওপর ই ভরসা করা উচিত। “তাঁর চেয়ে উত্তম কথা আর কোন ব্যক্তির হতে পারে যে মানুষকে আল্লাহ তা’আলার দিকে ডাকে এবং সে (নিজেও) নেক কাজ করে এবং বলে, আমিতো মুসলমানদেরই একজন” (৪১;৩৩)।
১১। বেশী বেশী  দাওয়াতী বই পড়তে হবে। যাতে আপনি একজনকে দাওয়াত দিলে সে দাওয়াতের মম বুঝতে পারে।
যেমন-------- কিছু বই এর মধ্যে হল:::::::::১. নবীদের দাওয়াত, ২. বরতমান সমাজের দাওয়াত,।




সব শেষ কথা, “তুমি তোমার মালিকের পথে (মানুষকে) প্রজ্ঞা ও সদুপদেশ দ্বারা আহ্বান করো, (কখনো তর্কে যেতে হলে) তুমি এমন এক পদ্ধতিতে যুক্তি তর্ক করো যা সবচাইতে উতকৃ্ষ্ট পন্থা......” (সূরা আন-নাহল -১২৫)



আমার দেশ আমার অহংকার,
তার নাম বাংলাদেশ...............





বুধবার, ২ এপ্রিল, ২০১৪

ছা’লাবা সাহাবীর কাহিনী

ভীষণ সুন্দর একটি কাহিনী সবার সাথে শেয়ার করছি। আশা করি আমরা জীবনে সবকিছু একটু অন্যভাবে দেখার চেষ্টা করব।

আল্লাহ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একজন সাহাবী, নাম ছা’লাবা (ثعلبه) । মাত্র ষোল বছর বয়স। রাসূল (সা) এর জন্য বার্তাবাহক হিসেবে এখানে সেখানে ছুটোছুটি করে বেড়াতেন তিনি। একদিন উনি মদীনার পথ ধরে চলছেন, এমন সময় একটা বাড়ির পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় তাঁর চোখ পড়ল দরজা খুলে থাকা এক ঘরের মধ্যে। ভিতরে গোসলখানায় একজন মহিলা গোসলরত ছিলেন, এবং বাতাসে সেখানের পর্দা উড়ছিল, তাই ছা’লাবার চোখ ঐ মহিলার উপর যেয়ে পড়ল। সঙ্গে সঙ্গে উনি দৃষ্টি নামিয়ে নিলেন।

কিন্তু ছা’লাবার মন এক গভীর অপরাধবোধে ভরে গেল। প্রচন্ড দুঃখ তাকে আচ্ছাদন করল। তার নিজেকে মুনাফিক্বের মত লাগছিল। তিনি ভাবলেন, ‘কিভাবে আমি রাসূল (সা) এর সাহাবী হয়ে এতোটা অপ্রীতিকর কাজ করতে পারি?! মানুষের গোপনীয়তাকে নষ্ট করতে পারি? যেই আমি কিনা রাসূল (সা) এর বার্তা বাহক হিসেবে কাজ করি, কেমন করে এই ভীষণ আপত্তিজনক আচরণ তার পক্ষে সম্ভব?’ তাঁর মন আল্লাহর ভয়ে কাতর হয়ে গেল। তিনি ভাবলেন, ‘না জানি আল্লাহ আমার এমন আচরণের কথা রাসূল সা এর কাছে প্রকাশ করে দেয়!’ ভয়ে, রাসূল (সা) এর মুখোমুখি হওয়ার লজ্জায়, তিনি তৎক্ষণাৎ ঐ স্থান থেকে পালিয়ে গেলেন।

এভাবে অনেকদিন চলে গেল। রাসূল সাল্লাল্লাহু ওয়ালাইহি ওয়াসাল্লাম অন্যান্য সাহাবাদের কে ছা’লাবার কথা জিজ্ঞেস করতেই থাকতেন। কিন্তু সবাই জানাল কেউ-ই ছা’লাবাকে দেখেনি। এদিকে রাসূল (সা) এর দুশ্চিন্তা ক্রমেই বাড়ছিল। তিনি উমর (রা), সালমান আল ফারিসি সহ আরো কিছু সাহাবাদের পাঠালেন ছা’লাবার খোঁজ আনার জন্য। মদীনা তন্ন তন্ন করে খুঁজেও ছা’লাবার দেখা মিলল না। পরে মদীনার একেবারে সীমানাবর্তী একটা স্থানে, মক্কা ও মদীনার মধ্যখানে অবস্থিত পর্বতময় একটা জায়গায় পৌঁছে কিছু বেদুঈনের সাথে দেখা হল তাদের। দেখানে এসে তারা ছা’লাবার সম্পর্কে খোঁজ খবর নিতে শুরু করলেন। ‘তোমরা কি লম্বা, তরুণ, কম বয়সী একটা ছেলেকে এদিকে আসতে দেখেছ?’

বেদুঈনগুলো মেষ চড়াচ্ছিল। তারা জবাব দিল, সে খবর তারা জানেনা, তবে তারা জিজ্ঞেস করল, ‘তোমরা কি ক্রন্দনরত বালকের সন্ধানে এসেছ?’ একথা শুনে সাহাবারা আগ্রহী হয়ে উঠলেন এবং তার বর্ণনা জানতে চাইলেন। উত্তরে ওরা বলল, ‘আমরা প্রতিদিন দেখি মাগরিবের সময় এখানে একটা ছেলে আসে, সে দেখতে এতো লম্বা, কিন্তু খুব দুর্বল, সে শুধুই কাঁদতে থাকে। আমরা তাকে খাওয়ার জন্য এক বাটি দুধ দেই, সে দুধের বাটিতে চুমুকদেয়ার সময় তার চোখের পানি টপটপ করে পড়ে মিশে যায় দুধের সাথে, কিন্তু সেদিকে তার হুঁশ থাকেনা!’ তারা জানালো চল্লিশ দিন যাবৎ ছেলেটা এখানে আছে। একটা পর্বতের গুহার মধ্যে সে থাকে, দিনে একবারই সে নেমে আসে, কাঁদতে কাঁদতে; আবার কাঁদতে কাঁদতে, আল্লাহর কাছে সর্বদা ক্ষমা প্রার্থনা করতে করতে উপরে চলে যায়।

সাহাবারা বর্ণনা শুনেই বুঝলেন, এ ছা’লাবা না হয়ে আর যায় না। তবে তাঁরা উপরে যেয়ে থা’লাবা ভড়কে দিতে চাচ্ছিলেন না, এজন্য নিচেই অপেক্ষা করতে লাগলেন।

যথাসময়ে প্রতিদিনের মত আজও ছা’লাবা ক্রন্দনরত অবস্থায় নেমে আসলেন, তাঁর আর কোনদিকে খেয়াল নাই। কী দুর্বল শরীর হয়ে গেছে তাঁর! বেদুঈনদের কথামত তাঁরা দেখতে পেলেন, থা’লাবা দুধের বাটিতে হাতে কাঁদছে, আর তাঁর অশ্রু মিশে একাকার হয়ে যাচ্ছে। তাঁর চেহারায় গভীর বিষাদের চিহ্ন স্পষ্টভাবে প্রকাশ পাচ্ছে।
সাহাবারা তাকে বললেন, ‘আমাদের সাথে ফিরে চল’; অথচ থা’লাবা যেতে রাজি হচ্ছিলেন না। তিনি বারবার সাহাবাদেরকে জিজ্ঞেস করতে লাগলেন, ‘আল্লাহ কি আমার মুনাফেক্বী বিষয়ক কোন সূরা নাযিল করেছে?’ সাহাবারা উত্তরে বললেন, ‘না আমাদের জানামতে এমন কোন আয়াত নাযিল হয় নাই।’ উমর (রা) বললেন, রাসূল (সা) আমাদেরকে তোমাকে নিয়ে যাওয়ার জন্য পাঠিয়েছেন। তুমি যদি এখন যেতে রাজি না হও, তাহলে তোমাকে আমরা জোর করে ধরে নিয়ে যাব। রাসূল (সা) এর কথা অমান্য করবেন এমন কোন সাহাবা ছিল না। কিন্তু ছা’লাবা এতোটাই লজ্জিত ছিলেন যে ফিরে যেতে চাচ্ছিলেন নাহ। এরপর সাহাবারা তাকে রাসূল (সা) এর কাছে মদীনায় নিয়ে আসেন।

মহানবী (সা) এর কাছে এসে ছা’লাবা আবারও একই প্রশ্ন করে, ‘আল্লাহ কি আমাকে মুনাফিক্বদের মধ্যে অন্তর্গত করেছেন অথবা এমন কোন আয়াত নাযিল করেছেন যেখানে বলা আমি মুনাফিক্ব?’ রাসূল (সা) তাকে নিশ্চিত করলেন যে এমন কিছুই নাযিল হয়নি। তিনি ছা’লাবার দুর্বল পরিশ্রান্ত মাথাটা নিজের কোলের উপর রাখলেন। থা’লাবা কাঁদতে কাঁদতে বলে উঠলেন, ‘হে আল্লাহর রাসূল, এমন গুনাহগারব্যক্তির মাথা আপনার কোল থেকে সরিয়ে দিন।’ উনার কাছে মনে হচ্ছিল যেন সে এসব স্নেহের যোগ্য নাহ।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে সান্ত্বনা দিতেই থাকলেন। আল্লাহর রহমত আর দয়ার উপর ভরসা করতে বললেন। আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতে বললেন। এমন সময় ছা’লাবা বললেন, ‘হে আল্লাহর রাসূল আমার এমন মনে হচ্ছে যেন আমার হাড় আর মাংসের মাঝখানে পিঁপড়া হেঁটে বেড়াচ্ছে।’ রাসূল (সা) বললেন, ‘ওটা হল মৃত্যুর ফেরেশতা। তোমার সময় এসেছে ছা’লাবা, শাহাদাহ পড়’। ছা’লাবা শাহাদাহ বলতে থাকলেন, ‘আল্লাহ ছাড়া ইবাদাতের যোগ্য আর কোন ইলাহ নেই, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রাসূল’

উনি শাহাদাহ বলতে থাকলেন... বলতেই থাকলেন... এমনভাবে তাঁর রুহ শরীর থেকে বের হয়ে গেল।

মহানবী (সা) ছা’লাবাকে গোসল করিয়ে জানাজার পর কবর দিতে নিয়ে যাচ্ছিলেন। আরো অনেক সাহাবা ছা’লাবাকে বহন করে নিয়ে যাচ্ছিলেন। মহানবী (সা) পা টিপে টিপে অনেক সাবধানে এগিয়ে যাচ্ছিলেন। উমর রাদিয়ালাহু আনহু অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, ‘হে আল্লাহর রাসূল, আপনিএভাবে কেন হাঁটছেন যেন ভিড়ের মাঝে হেঁটে চলেছেন.. কতো রাস্তা ফাঁকা পরে আছে, আপনি আরাম করে কেন চলছেন না ইয়া রাসুল?’

উত্তরে রাসূল (সা) বললেন, ‘হে উমর, আমাকে অনেক সাবধানে চলতে হচ্ছে। সমস্ত রাস্তা ফেরেশতাদের দ্বারা ভরে গেছে । ছা’লাবার জন্য এতো ফেরেশতা এসেছে যে আমি ঠিকমত হাঁটার জায়গা পাচ্ছি না’।

সুবহানল্লাহ !

এই সেই ছা’লাবা যে ভুলক্রমে একটা ভুল করার জন্য এতো প্রায়শ্চিত্য করেছেন। গুনাহ-র কাজ করা তো দূরের কথা, গুনাহ নাকরেও আল্লাহর কাছে ক্ষমা চেয়ে চেয়ে ব্যাকুল হয়েছেন। কত উঁচু ছিলেন তিনি আল্লাহর চোখে যে তাকে নেয়ার জন্য ফেরেশতাদের আগমনে রাস্তা ভরে গিয়েছিল! এই সব ফেরেশতারা নেমে এসেছে শুধু থা’লাবার জন্য, তাঁর জন্য দুআ করারজন্য, তাকে নিয়ে যাবার জন্য। আর আমরা সারাদিন জেনে না জেনে এতো ভুল করেও, এতোগুনাহ করেও অনুশোচনা করি না! উলটা আমাদের পছন্দ মত কিছু না হলেই আল্লাহর আদেশের উপর অসন্তোষ প্রকাশ করতে থাকি, জীবন নিয়ে নালিশ করতে থাকি।

একটা হাদীস আছে, ‘মু’মিন বান্দার কাছে তার গুনাহগুলো এমন যেন এখনই পাহাড় ভেঙ্গে তার মাথার উপর পড়বে; আর একজন দুর্বৃত্তকারীর কাছে গুনাহ এরকম যে মাছি এসে তার নাকের উপর উড়াউড়ি করছে, আর সে হাত নাড়িয়ে সেটা সরিয়ে দিল’। [বুখারি, বইঃ৭৫, হাদীস নং ৩২০]

আমরা আমাদের গুনাহগুলোকে দেখেও না দেখার ভান করি। স্বীকার করতে চাইনা। কতো রকম যুক্তি দিয়ে জাস্টিফাই করার চেষ্টা করি। একটু ফ্যাশন, শখ, মনের ইচ্ছা পূরণ, মানুষের সামনে বড় হওয়া, যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলার জন্য আমরা গুনাহ-র কাজে জড়িয়ে পরি। কিন্তু আল্লাহর কাছে বিনয়ের সাথে ক্ষমা চাওয়ার কথা ভাবতে পারিনা। আমাদের যুক্তি, অহংকার, শয়তানের মতই আমাদেরকে ক্ষমা প্রার্থনা থেকে বিরত রাখে। কিয়ামতের দিন এক আল্লাহর রহমত আর দয়া ছাড়া কিছুই আমাদেরকে আগুন থেকে বাঁচাতে পারবে না। জান্নাত তাদেরজন্যই যারা আল্লাহর কাছে মাথা নত করে। আত্মসমর্পণ করে পূর্ণভাবে। নিজের ইচ্ছা, অহম বোধের কাছে মাথা নত করেনা। তাই ঈমানদার ব্যক্তিই বিনয়ী। তার রবের সামনে কাঁদতে সে লজ্জা পায় না। ভুলের জন্য ক্ষমা চাইতে কুন্ঠাবোধ করেনা। সততার সাথে ক্ষমা চেয়ে দৃড়ভাবে সেই কাজ থেকে বিরত থাকে।

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা বলেন, ‘যেতওবা করে এবং ঈমান আনে ও পুণ্য-পবিত্র ক্রিয়াকর্ম করে। সুতরাং তারাই, -- আল্লাহ্ তাদের মন্দকাজকে সৎকাজ দিয়ে বদলে দেবেন। আর আল্লাহ্ সতত পরিত্রাণকারী, অফুরন্ত ফলদাতা’।
[সূরাহ ফুরক্বানঃ ৭০]

আল্লাহ আমাদেরকে আমাদের জেনে না জেনে করা গুনাহগুলো থেকে ক্ষমা করে দিক ! আমাদেরকে সঠিকভাবে মনের অন্তঃস্থল থেকে অনুতাপ করার, ক্ষমা চাওয়ার সুযোগ দান করুক। আমাদেরকে নিজেদের ভুলবুঝার আর স্বীকার করে নিয়ে খারাপ কাজগুলো থেকে দূরে থাকার তওফিক দিক... আমীন।