Pages

শুক্রবার, ২৮ নভেম্বর, ২০১৪

কোরআনের বাংলা অনুবাদ পাঠ ৩( সূরা আল বাক্বারাহ, আঃ ১১-২৫ )





সূরা আল বাক্বারাহ ( মদীনায় অবতীর্ণ ),আয়াত সংখাঃ ২৮৬ 
بِسْمِ اللّهِ الرَّحْمـَنِ الرَّحِيمِ
শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু।
وَإِذَا قِيلَ لَهُمْ لاَ تُفْسِدُواْ فِي الأَرْضِ قَالُواْ إِنَّمَا نَحْنُ مُصْلِحُونَ 
আর যখন তাদেরকে বলা হয় যে, দুনিয়ার বুকে দাঙ্গা-হাঙ্গামা সৃষ্টি করো না, তখন তারা বলে, 
আমরা তো মীমাংসার পথ অবলম্বন করেছি।
أَلا إِنَّهُمْ هُمُ الْمُفْسِدُونَ وَلَـكِن لاَّ يَشْعُرُونَ
মনে রেখো, তারাই হাঙ্গামা সৃষ্টিকারী, কিন্তু তারা তা উপলব্ধি করে না। 
وَإِذَا قِيلَ لَهُمْ آمِنُواْ كَمَا آمَنَ النَّاسُ قَالُواْ أَنُؤْمِنُ كَمَا آمَنَ السُّفَهَاء أَلا إِنَّهُمْ هُمُ السُّفَهَاء وَلَـكِن لاَّ يَعْلَمُونَ
আর যখন তাদেরকে বলা হয়, অন্যান্যরা যেভাবে ঈমান এনেছে তোমরাও সেভাবে ঈমান আন, তখন তারা বলে, আমরাও কি ঈমান আনব বোকাদেরই মত! মনে রেখো, প্রকৃতপক্ষে তারাই বোকা, কিন্তু তারা তা বোঝে না।

وَإِذَا لَقُواْ الَّذِينَ آمَنُواْ قَالُواْ آمَنَّا وَإِذَا خَلَوْاْ إِلَى شَيَاطِينِهِمْ قَالُواْ إِنَّا مَعَكْمْ إِنَّمَا نَحْنُ مُسْتَهْزِؤُونَ
আর তারা যখন ঈমানদারদের সাথে মিশে, তখন বলে, আমরা ঈমান এনেছি। আবার যখন তাদের শয়তানদের সাথে একান্তে সাক্ষাৎ করে, তখন বলে, আমরা তোমাদের সাথে রয়েছি। আমরা তো (মুসলমানদের সাথে) উপহাস করি মাত্রা।

اللّهُ يَسْتَهْزِىءُ بِهِمْ وَيَمُدُّهُمْ فِي طُغْيَانِهِمْ يَعْمَهُونَ
বরং আল্লাহই তাদের সাথে উপহাস করেন। আর তাদেরকে তিনি ছেড়ে দিয়েছেন যেন তারা নিজেদের অহংকার ও কুমতলবে হয়রান ও পেরেশান থাকে।

أُوْلَـئِكَ الَّذِينَ اشْتَرُوُاْ الضَّلاَلَةَ بِالْهُدَى فَمَا رَبِحَت تِّجَارَتُهُمْ وَمَا كَانُواْ مُهْتَدِينَ
তারা সে সমস্ত লোক, যারা হেদায়েতের বিনিময়ে গোমরাহী খরিদ করে। বস্তুতঃ তারা তাদের এ ব্যবসায় লাভবান হতে পারেনি এবং তারা হেদায়েতও লাভ করতে পারেনি।

مَثَلُهُمْ كَمَثَلِ الَّذِي اسْتَوْقَدَ نَاراً فَلَمَّا أَضَاءتْ مَا حَوْلَهُ ذَهَبَ اللّهُ بِنُورِهِمْ وَتَرَكَهُمْ فِي ظُلُمَاتٍ لاَّ يُبْصِرُونَ
তাদের অবস্থা সে ব্যক্তির মত, যে লোক কোথাও আগুন জ্বালালো এবং তার চারদিককার সবকিছুকে যখন আগুন স্পষ্ট করে তুললো, ঠিক এমনি সময় আল্লাহ তার চারদিকের আলোকে উঠিয়ে নিলেন এবং তাদেরকে অন্ধকারে ছেড়ে দিলেন। ফলে, তারা কিছুই দেখতে পায় না।
صُمٌّ بُكْمٌ عُمْيٌ فَهُمْ لاَ يَرْجِعُونَ
তারা বধির, মূক ও অন্ধ। সুতরাং তারা ফিরে আসবে না। 
أَوْ كَصَيِّبٍ مِّنَ السَّمَاء فِيهِ ظُلُمَاتٌ وَرَعْدٌ وَبَرْقٌ يَجْعَلُونَ أَصْابِعَهُمْ فِي آذَانِهِم مِّنَ الصَّوَاعِقِ حَذَرَ الْمَوْتِ واللّهُ مُحِيطٌ بِالْكافِرِينَ
আর তাদের উদাহরণ সেসব লোকের মত যারা দুর্যোগপূর্ণ ঝড়ো রাতে পথ চলে, যাতে থাকে আঁধার, গর্জন ও বিদ্যুৎচমক। মৃত্যুর ভয়ে গর্জনের সময় কানে আঙ্গুল দিয়ে রক্ষা পেতে চায়। অথচ সমস্ত কাফেরই আল্লাহ কর্তৃক পরিবেষ্ঠিত।
يَكَادُ الْبَرْقُ يَخْطَفُ أَبْصَارَهُمْ كُلَّمَا أَضَاء لَهُم مَّشَوْاْ فِيهِ وَإِذَا أَظْلَمَ عَلَيْهِمْ قَامُواْ وَلَوْ شَاء اللّهُ لَذَهَبَ بِسَمْعِهِمْ وَأَبْصَارِهِمْ إِنَّ اللَّه عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
বিদ্যুতালোকে যখন সামান্য আলোকিত হয়, তখন কিছুটা পথ চলে। আবার যখন অন্ধকার হয়ে যায়, তখন ঠাঁয় দাঁড়িয়ে থাকে। যদি আল্লাহ ইচ্ছা করেন, তাহলে তাদের শ্রবণশক্তি ও দৃষ্টিশক্তি ছিনিয়ে নিতে পারেন। আল্লাহ যাবতীয় বিষয়ের উপর সর্বময় ক্ষমতাশীল।

يَا أَيُّهَا النَّاسُ اعْبُدُواْ رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ وَالَّذِينَ مِن قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ
হে মানব সমাজ! তোমরা তোমাদের পালনকর্তার এবাদত কর, যিনি তোমাদিগকে এবং তোমাদের পূর্ববর্তীদিগকে সৃষ্টি করেছেন। তাতে আশা করা যায়, তোমরা পরহেযগারী অর্জন করতে পারবে।

الَّذِي جَعَلَ لَكُمُ الأَرْضَ فِرَاشاً وَالسَّمَاء بِنَاء وَأَنزَلَ مِنَ السَّمَاء مَاء فَأَخْرَجَ بِهِ مِنَ الثَّمَرَاتِ رِزْقاً لَّكُمْ فَلاَ تَجْعَلُواْ لِلّهِ أَندَاداً وَأَنتُمْ تَعْلَمُونَ
যে পবিত্রসত্তা তোমাদের জন্য ভূমিকে বিছানা এবং আকাশকে ছাদ স্বরূপ স্থাপন করে দিয়েছেন, আর আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করে তোমাদের জন্য ফল-ফসল উৎপাদন করেছেন তোমাদের খাদ্য হিসাবে। অতএব, আল্লাহর সাথে তোমরা অন্য কাকেও সমকক্ষ করো না। বস্তুতঃ এসব তোমরা জান।

وَإِن كُنتُمْ فِي رَيْبٍ مِّمَّا نَزَّلْنَا عَلَى عَبْدِنَا فَأْتُواْ بِسُورَةٍ مِّن مِّثْلِهِ وَادْعُواْ شُهَدَاءكُم مِّن دُونِ اللّهِ إِنْ كُنْتُمْ صَادِقِينَ
এতদসম্পর্কে যদি তোমাদের কোন সন্দেহ থাকে যা আমি আমার বান্দার প্রতি অবতীর্ণ করেছি, তাহলে এর মত একটি সূরা রচনা করে নিয়ে এস। তোমাদের সেসব সাহায্যকারীদেরকে সঙ্গে নাও-এক আল্লাহকে ছাড়া, যদি তোমরা সত্যবাদী হয়ে থাকো।

فَإِن لَّمْ تَفْعَلُواْ وَلَن تَفْعَلُواْ فَاتَّقُواْ النَّارَ الَّتِي وَقُودُهَا النَّاسُ وَالْحِجَارَةُ أُعِدَّتْ لِلْكَافِرِينَ
আর যদি তা না পার-অবশ্য তা তোমরা কখনও পারবে না, তাহলে সে দোযখের আগুন থেকে রক্ষা পাওয়ার চেষ্টা কর, যার জ্বালানী হবে মানুষ ও পাথর। যা প্রস্তুত করা হয়েছে কাফেরদের জন্য।

وَبَشِّرِ الَّذِين آمَنُواْ وَعَمِلُواْ الصَّالِحَاتِ أَنَّ لَهُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِن تَحْتِهَا الأَنْهَارُ كُلَّمَا رُزِقُواْ مِنْهَا مِن ثَمَرَةٍ رِّزْقاً قَالُواْ هَـذَا الَّذِي رُزِقْنَا مِن قَبْلُ وَأُتُواْ بِهِ مُتَشَابِهاً وَلَهُمْ فِيهَا أَزْوَاجٌ مُّطَهَّرَةٌ وَهُمْ فِيهَا خَالِدُونَ
আর হে নবী (সাঃ), যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকাজসমূহ করেছে, আপনি তাদেরকে এমন বেহেশতের সুসংবাদ দিন, যার পাদদেশে নহরসমূহ প্রবাহমান থাকবে। যখনই তারা খাবার হিসেবে কোন ফল প্রাপ্ত হবে, তখনই তারা বলবে, এতো অবিকল সে ফলই যা আমরা ইতিপূর্বেও লাভ করেছিলাম। বস্তুতঃ তাদেরকে একই প্রকৃতির ফল প্রদান করা হবে। এবং সেখানে তাদের জন্য শুদ্ধচারিনী রমণীকূল থাকবে। আর সেখানে তারা অনন্তকাল অবস্থান করবে।

শুক্রবার, ৭ নভেম্বর, ২০১৪

কি ঘটেছিল কারবালায়? কারা হুসাইন (রা:) কে হত্যা করেছে?




কি ঘটেছিল কারবালায়? কারা হুসাইন (রা:) কে হত্যা করেছে?

রচনায়: শাইখ আব্দুল্লাহ শাহেদ মাদানী
লিসান্স: মদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, এম,এম, ফাস্ট ক্লাশ 
জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সৌদী আরব।


এই প্রবন্ধে যে সকল বিষয় আলোচিত হয়েছে সেগুলো হল:
১) ভূমিকা
২) কারবালার প্রান্তরে রাসূলের দৌহিত্র হুসাইন (রা:) নিহত হওয়ার প্রকৃত ঘটনা।
৩) ফুরাত নদীর পানি পান করা থেকে বিরত রাখার কিচ্ছা।
৪) কারবালার প্রান্তরে হুসাইনের সাথে আরও যারা নিহত হয়েছেন।
৫) কারবালার ঘটনাকে কেন্দ্র করে যে সমস্ত ধারণা ঠিক নয়।
৬) হুসাইন (রা.) বের হওয়া ন্যায় সংগত ছিল কি?
৭) কারবালার ঘটনাকে আমরা কিভাবে মূল্যায়ন করব?
৮) মৃত ব্যক্তির উপর বিলাপ করার ক্ষেত্রে শিয়া মাজহাবের মতামত।
৯) আশুরার দিনে আমাদের করণীয় কী?
১০) শিয়াদের বর্ণনায় আশুরার রোজা।
১১) আশুরার দিনে মাতম করার ভিত্তি কোথায়?
১২) হুসাইন (রা.) হত্যায় ইয়াজিদ কতটুকু দায়ী?
১৩) তাহলে কে হুসাইন (রা:)কে হত্যা করল?
১৪) হুসাইন (রা.) হত্যাকারী নির্ধারণে ইবনে উমর (রা:)এর অভিমত।
১৫) হুসাইন (রা.) এর ভাষণই প্রমাণ করে যে ইয়াজিদ তাঁর হত্যার জন্য সরাসরি দায়ী নয়।
১৬) আলী বিন হুসাইন (রা.) তাঁর পিতা হুসাইনকে হত্যার জন্য কুফা বাসীদেরকে দায়ী করেছেন?
১৭) হুসাইন রা. এর মাথা কোথায় গিয়েছিল?
১৮) যেমন কর্ম তেমন ফল।
১৯) ইয়াজিদ সম্পর্কে একজন মুসলিমের ধারণা কেমন হওয়া উচিত।
২০) উপসংহার।

১) ভূমিকা:

প্রশংসা মাত্রই আল্লাহর জন্য, যিনি বিশ্ব জাহানের প্রতিপালক। দরূদ ও সালাম বর্ষিত হোক মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম), তাঁর পরিবার এবং সকল সাহাবীর উপর।

সৌভাগ্যবান শহীদ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দৌহিত্র সায়্যেদ হেসাইন বিন আলী (রা:)এর কারবালার প্রান্তরে শহীদ হওয়াকে কেন্দ্র করে অনেক ঘটনাই প্রসিদ্ধ রয়েছে। আমাদের বাংলাদেশের অনেক মুসলিমের মধ্যে এ বিষয়ে বিরাট বিভ্রান্তি রয়েছে। দেশের রাষ্ট্র প্রতি, প্রধান মন্ত্রী, বিরোধী দলীয় নেতাগণ, ইসলামী বিভিন্ন সংগঠন ও ব্যক্তিবর্গ এ দিন উপলক্ষে জাতির সামনে প্রতিবছর বিশেষ বাণী তুলে ধরেন। রেডিও, টেলিভিশন, সংবাদপত্র এ উপলক্ষে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার করে থাকে। এ দিন আমাদের দেশে সরকারী ছুটি থাকে। তাদের সকলের কথা ঘুরে ফিরে একটাই। স্বৈরাচারী, জালেম, নিষ্ঠুর ও নরপশু ইয়াজিদের হাতে এ দিনে রাসূলের দৌহিত্র ইমাম হুসাইন নির্মমভাবে নিহত হয়েছেন। এ জন্য এটি একটি পবিত্র দিন। বিশেষ একটি সম্প্রদায় এ দিন উপলক্ষে তাজিয়া মিছিলসহ নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকে। বিষাদসিন্ধু নামক একটি উপন্যাস পড়ে বা এর কিছু বানোয়াট ও কাল্পনিক কাহিনী শুনে সুন্নি মুসলিমগণও এ বিষয়ে ধুম্রজালে আটকা পড়েছেন।
জাতির ভুল-ভ্রান্তি সংশোধনের জন্য আজ আমি এ বিষয়ে সঠিক ও গুরুত্বপূর্ণ একটি তথ্য প্রকাশ করার কাজে অগ্রসর হতে বাধ্য হলাম। মূল বিষয়ে যাওয়ার আগে সংক্ষিপ্ত আকারে একটি ভূমিকা পেশ করতে চাই। মন দিয়ে ভূমিকাটি পড়লে মূল বিষয় বুঝতে সহজ হবে বলে আমার বিশ্বাস। আমি আরও বিশ্বাস করি যে, আমার লেখাটি পড়ে এ বিষয়ে অনেকের আকীদাহ সংশোধন হবে। আর যারা বিষয়টি নিয়ে সংশয়ে আছেন, তাদেরও সংশয় কেটে যাবে ইনশাআল্লাহ।
ইমাম ইবনে কাছীর (র:) বলেন: প্রতিটি মুসলিমের উচিত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দৌহিত্র সায়্যেদ হেসাইন বিন আলী (রা:)এর কারবালার প্রান্তরে শহীদ হওয়ার ঘটনায় ব্যথিত হওয়া ও সমবেদনা প্রকাশ করা। তিনি ছিলেন মুসলিম জাতির নেতা ও ইমামদের অন্যতম। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সর্বশ্রেষ্ঠ কন্যা ফাতেমার পুত্র ইমাম হুসাইন (রা:) একজন বিজ্ঞ সাহাবী ছিলেন। তিনি ছিলেন একধারে এবাদত গুজার, দানবীর এবং অত্যন্ত সাহসী বীর। হাসান ও হুসাইনের ফজিলতে রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে একাধিক সহীহ হাদীছ বর্ণিত হয়েছে। অন্তর দিয়ে তাদেরকে ভালবাসা ঈমানের অন্যতম আলামত এবং নবী পরিবারের কোন সদস্যকে ঘৃণা করা ও গালি দেয়া মুনাফেকির সুস্পষ্ট লক্ষণ। যাদের অন্তর ব্যাধিগ্রস্ত কেবল তারাই ইমাম হুসাইন বা নবী পরিবারের পবিত্র সদস্যদেরকে ঘৃণা করতে পারে।

আহলে সুন্নত ওয়াল জামআতের আকীদাহ অনুযায়ী ইমাম হুসাইন বা অন্য কারও মৃত্যুতে মাতম করা জায়েজ নেই। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হল মুসলিম জাতির বিরাট একটি গোষ্ঠী ইমাম হুসাইনের মৃত্যুতে মাত্রাতিরিক্ত বাড়াবাড়ি করে থাকে। যারা হুসাইনের মৃত্যু ও কারবালার ঘটনা নিয়ে বাড়াবাড়ি করেন, তাদের কাছে কয়েকটি প্রশ্ন করা খুবই যুক্তিসংগত মনে করছি। যে সমস্ত সুন্নি মুসলিম সঠিক তথ্য না জানার কারণে এ ব্যাপারে সন্দিহান ও বিভ্রান্তিতে আছেন তাদের কাছেও আমার একই প্রশ্ন। প্রশ্নগুলো ভালভাবে উপলব্ধি করতে পারলেই প্রকৃত ঘটনা বুঝা খুব সহজ হবে ইনশা-আল্লাহ।
প্রথম প্রশ্ন: হুসাইনের পিতা এবং ইসলামের চতুর্থ খলীফা আলী বিন আবু তালেব (রা:) হুসাইনের চেয়ে অধিক উত্তম ছিলেন। তিনি ৪০ হিজরী সালে রমযান মাসের ১৭ তারিখ জুমার দিন ফজরের নামাযের উদ্দেশ্যে বের হওয়ার সময় আব্দুর রাহমান মুলজিম খারেজীর হাতে নির্মমভাবে নিহত হয়েছেন। তারা হুসাইনের মৃত্যু উদযাপনের ন্যায় তাঁর পিতার মৃত্যু উপলক্ষে মাতম করে না কেন?

দ্বিতীয় প্রশ্ন: আহলে সুন্নত ওয়াল জামআতের আকীদাহ অনুযায়ী উসমান বিন আফ্ফান ছিলেন আলী ও হুসাইন (রা:)এর চেয়ে অধিক উত্তম। তিনি ৩৬ হিজরী সালে যুল হজ্জ মাসের আইয়ামে তাশরীকে স্বীয় বাস ভবনে অবরুদ্ধ অবস্থায় মাজলুম ভাবে নিহত হন। ন্যায় পরায়ণ এই খলীফাকে পশুর ন্যায় জবাই করা হয়েছে। তারা তাঁর হত্যা দিবসকে কেন্দ্র করে অনুষ্ঠান করে না কেন?

তৃতীয় প্রশ্ন: এমনভাবে খলীফাতুল মুসলিমীন উমর ইবনুল খাত্তাব (রা:) উসমান এবং আলী (রা:) থেকেও উত্তম ছিলেন। তিনি ফজরের নামাযে দাঁড়িয়ে কুরআন তেলাওয়াত করছিলেন এবং মুসলমানদেরকে নিয়ে জামআতের ইমামতি করছিলেন। এমন অবস্থায় আবু লুলু নামক একজন অগ্নি পূজক তাঁকে দুই দিকে ধারালো একটি ছুরি দিয়ে আঘাত করে। সাথে সাথে তিনি ধরাশায়ী হয়ে যান এবং শহীদ হন। লোকেরা সেই দিনে মাতম করে না কেন?

চতুর্থ প্রশ্ন: ইসলামের প্রথম খলীফা এবং রাসূলের বিপদের দিনের সাথী আবু বকরের মৃত্যু কি মুসলিমদের জন্য বেদনাদায়ক নয়? তিনি কি রাসূলের পরে এই উম্মতের সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যক্তি ছিলেন না? তার মৃত্যু দিবসে তারা তাজিয়া করে না কেন?

পঞ্চম প্রশ্ন: সর্বোপরি নবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দুনিয়া ও আখেরাতে সমস্ত বনী আদমের সরদার। আল্লাহ্‌ তায়ালা তাঁকে অন্যান্য নবীদের ন্যায় স্বীয় সান্নিধ্যে উঠিয়ে নিয়েছেন। সাহাবীদের জন্য রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মৃত্যুর চেয়ে অধিক বড় আর কোন মুসীবত ছিল না। তিনি ছিলেন তাদের কাছে স্বীয় জীবন, সম্পদ ও পরিবার-পরিজনের চেয়েও অধিক প্রিয়। তারপরও তাদের কেউ রাসূলের মৃত্যুতে মাতম করেন নি। হুসাইনের প্রেমে মাতালগণকে রাসূলের মৃত্যু দিবসকে উৎসব ও শোক প্রকাশের দিন হিসেবে নির্ধারণ করতে দেখা যায় না কেন?

ষষ্ঠ প্রশ্ন: সর্বশেষ প্রশ্ন হচ্ছে হুসাইনের চেয়ে বহুগুণ বেশী শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিদের মৃত্যু দিবসকে বাদ দিয়ে ইমাম হুসাইনের মৃত্যুকে বেছে নিয়ে এত বাড়াবাড়ি শুরু করা হল কেন? 
এর উত্তর আমার এই লেখার শেষ পর্যায়ে উলেখ্য করেছি। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত লেখাটি পাঠ করলে উত্তরটি সহজেই বোধগম্য হওয়া যাবে ইনশাআল্লাহ সর্বোপরি ইসলামে কারও জন্ম দিবস বা মৃত্যু দিবস পালন করার এবং কারও মৃত্যুতে মাতম করা, উচ্চ স্বরে বিলাপ করা এবং অন্য কোন প্রকার অনুষ্ঠান করার কোন ভিত্তি নেই। শুধু তাই নয় এটি একটি জঘন্য বিদআত, যা পরিত্যাগ করা জরুরী। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বা তাঁর কোন সাহাবী কারও জন্ম দিবস বা মৃত্যু দিবস পালন করেন নি।

২) কারবালার প্রান্তরে রাসূলের দৌহিত্র হুসাইন (রা:) নিহত হওয়ার প্রকৃত ঘটনা:

৬০ হিজরিতে ইরাক বাসীদের নিকট সংবাদ পৌঁছল যে, হুসাইন (রা:) ইয়াজিদ বিন মুয়াবিয়া হাতে বয়াত করেন নি। তারা তাঁর নিকট চিঠি-পত্র পাঠিয়ে জানিয়ে দিল যে ইরাক বাসীরা তাঁর হাতে খেলাফতের বয়াত করতে আগ্রহী। ইয়াজিদকে তারা সমর্থন করেন না বলেও সাফ জানিয়ে দিল। তারা আরও বলল যে, ইরাক বাসীরা ইয়াজিদের পিতা মুয়াবিয়া (রা:)এর প্রতিও মোটেই সন্তুষ্ট ছিলেন না। চিঠির পর চিঠি আসতে লাগল। এভাবে পাঁচ শতাধিক চিঠি হুসাইন (রা:)এর কাছে এসে জমা হল।
প্রকৃত অবস্থা যাচাই করার জন্য হুসাইন (রা:) তাঁর চাচাতো ভাই মুসলিম বিন আকীলকে পাঠালেন। মুসলিম কুফায় গিয়ে পৌঁছলেন। গিয়ে দেখলেন, আসলেই লোকেরা হুসাইনকে চাচ্ছে। লোকেরা মুসলিমের হাতেই হুসাইনের পক্ষে বয়াত নেওয়া শুরু করল। হানী বিন উরওয়ার ঘরে বয়াত সম্পন্ন হল।
সিরিয়াতে ইয়াজিদের নিকট এই খবর পৌঁছা মাত্র বসরার গভর্নর উবাইদুল্লাহ বিন যিয়াদকে পরিস্থিতি মোকাবেলা করার জন্য পাঠালেন। ইয়াজিদ উবাইদুল্লাহ বিন যিয়াদকে আদেশ দিলেন যে, তিনি যেন কুফা বাসীকে তার বিরুদ্ধে হুসাইনের সাথে যোগ দিয়ে বিদ্রোহ করতে নিষেধ করেন। সে হুসাইনকে হত্যা করার আদেশ দেন নি।
উবাইদুল্লাহ কুফায় গিয়ে পৌঁছলেন। তিনি বিষয়টি তদন্ত করতে লাগলেন এবং মানুষকে জিজ্ঞেস করতে শুরু করলেন। পরিশেষে তিনি নিশ্চিত হলেন যে, হানী বিন উরওয়ার ঘরে হুসাইনের পক্ষে বয়াত নেওয়া হচ্ছে।
অতঃপর মুসলিম বিন আকীল চার হাজার সমর্থক নিয়ে অগ্রসর হয়ে দ্বিপ্রহরের সময় উবাইদুল্লাহ বিন জিয়াদের প্রাসাদ ঘেরাও করলেন। এ সময় উবাইদুল্লাহ বিন যিয়াদ দাঁড়িয়ে এক ভাষণ দিলেন। তাতে তিনি ইয়াজিদের সেনা বাহিনীর ভয় দেখালেন। তিনি এমন ভীতি প্রদর্শন করলেন যে, লোকেরা ইয়াজিদের ধরপাকড় এবং শাস্তির ভয়ে আস্তে আস্তে পলায়ন করতে শুরু করল। ইয়াজিদের ভয়ে কুফা বাসীদের পলায়ন ও বিশ্বাস ঘাতকতার লোমহর্ষক ঘটনা জানতে চাইলে পাঠকদের প্রতি ইমাম ইবনে তাইমীয়া (র:) কর্তৃক রচিত মিনহাজুস সুন্নাহ বইটি পড়ার অনুরোধ রইল। যাই হোক কুফা বাসীদের চার হাজার লোক পালাতে পালাতে এক পর্যায়ে মুসলিম বিন আকীলের সাথে মাত্র তিন জন লোক অবশিষ্ট রইল। সূর্য অস্ত যাওয়ার পর মুসলিম বিন আকীল দেখলেন, হুসাইন প্রেমিক আল্লাহর একজন বান্দাও তার সাথে অবশিষ্ট নেই। এবার তাকে গ্রেপ্তার করা হল। উবাইদুল্লাহ বিন যিয়াদ তাকে হত্যার আদেশ দিলেন। মুসলিম বিন আকীল উবাইদুল্লাহএর নিকট আবেদন করলেন, তাকে যেন হুসাইনের নিকট একটি চিঠি পাঠানোর অনুমতি দেয়া হয়। এতে উবাইদুল্লাহ রাজী হলেন। চিঠির সংক্ষিপ্ত বক্তব্য ছিল এ রকম:
“হুসাইন! পরিবার-পরিজন নিয়ে ফেরত যাও। কুফা বাসীদের ধোঁকায় পড়ো না। কেননা তারা তোমার সাথে মিথ্যা বলেছে। আমার সাথেও তারা সত্য বলেনি। আমার দেয়া এই তথ্য মিথ্যা নয়।” অতঃপর যুল হজ্জ মাসের ৯ তারিখ আরাফা দিবসে উবাইদুল্লাহ মুসলিমকে হত্যার আদেশ প্রদান করেন। এখানে বিশেষভাবে স্মরণ রাখা দরকার যে, মুসলিম ইতিপূর্বে কুফা বাসীদের ওয়াদার উপর ভিত্তি করে হুসাইনকে আগমনের জন্য চিঠি পাঠিয়েছিলেন। সেই চিঠির উপর ভিত্তি করে যুলহাজ্জ মাসের ৮ তারিখে হুসাইন (রা:) মক্কা থেকে কুফার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিয়েছিলেন। অনেক সাহাবী তাঁকে বের হতে নিষেধ করেছিলেন। তাদের মধ্যে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস, আব্দুল্লাহ ইবনে উমর, আব্দুল্লাহ ইবনে যুবাইর, আব্দুল্লাহ বিন আমর এবং তাঁর ভাই মুহাম্মাদ ইবনুল হানাফীয়ার নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
ইবনে উমর হুসাইনকে লক্ষ্য করে বলেন: হুসাইন! আমি তোমাকে একটি হাদীছ শুনাবো। জিবরীল (আঃ) আগমন করে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে দুনিয়া এবং আখিরাত- এ দুটি থেকে যে কোন একটি গ্রহণ করার স্বাধীনতা দিয়েছিলেন। তিনি দুনিয়া বাদ দিয়ে আখিরাতকে বেছে নিয়েছেন। আর তুমি তাঁর অংশ। আল্লাহর শপথ! তোমাদের কেউ কখনই দুনিয়ার সম্পদ লাভে সক্ষম হবেন না। তোমাদের ভালর জন্যই আল্লাহ তোমাদেরকে দুনিয়ার ভোগ-বিলাস থেকে ফিরিয়ে রেখেছেন। হুসাইন তাঁর প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেন এবং যাত্রা বিরতি করতে অস্বীকার করলেন। অতঃপর ইবনে উমর হুসাইনের সাথে আলিঙ্গন করে বিদায় দিলেন এবং ক্রন্দন করলেন।
সুফীয়ান ছাওরী ইবনে আব্বাস (রা:) থেকে সহীহ সূত্রে বর্ণনা করেন যে, ইবনে আব্বাস (রা:) হুসাইনকে বলেছেন: মানুষের দোষারোপের ভয় না থাকলে আমি তোমার ঘাড়ে ধরে বিরত রাখতাম।
বের হওয়ার সময় আব্দুল্লাহ ইবনে যুবাইর (রা:) হুসাইনকে বলেছেন: হোসাইন! কোথায় যাও? এমন লোকদের কাছে, যারা তোমার পিতাকে হত্যা করেছে এবং তোমার ভাইকে আঘাত করেছে?
আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রা:) বলেছেন: হুসাইন তাঁর জন্য নির্ধারিত ফয়সালার দিকে দ্রুত অগ্রসর হচ্ছেন। আল্লাহর শপথ! তাঁর বের হওয়ার সময় আমি যদি উপস্থিত থাকতাম, তাহলে কখনই তাকে যেতে দিতাম না। তবে বল প্রয়োগ করে আমাকে পরাজিত করলে সে কথা ভিন্ন। (ইয়াহ্-ইয়া ইবনে মাঈন সহীস সূত্রে বর্ণনা করেছেন)
যাত্রা পথে হুসাইনের কাছে মুসলিমের সেই চিঠি এসে পৌঁছল। চিঠির বিষয় অবগত হয়ে তিনি কুফার পথ পরিহার করে ইয়াজিদের কাছে যাওয়ার জন্য সিরিয়ার পথে অগ্রসর হতে থাকলেন। পথিমধ্যে ইয়াজিদের সৈন্যরা আমর বিন সাদ, সীমার বিন যুল জাওশান এবং হুসাইন বিন তামীমের নেতৃত্বে কারবালার প্রান্তরে হুসাইনের গতিরোধ করল। হুসাইন সেখানে অবতরণ করে আল্লাহর দোহাই দিয়ে এবং ইসলামের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনটি প্রস্তাবের যে কোন একটি প্রস্তাব মেনে নেওয়ার আহবান জানালেন।
হুসাইন বিন আলী (রা:) এবং রাসূলের দৌহিত্রকে ইয়াজিদের দরবারে যেতে দেয়া হোক। তিনি সেখানে গিয়ে ইয়াজিদের হাতে বয়াত গ্রহণ করবেন। কেননা তিনি জানতেন যে, ইয়াজিদ তাঁকে হত্যা করতে চান না। অথবা তাঁকে মদিনায় ফেরত যেতে দেয়া হোক।
অথবা তাঁকে কোন ইসলামী অঞ্চলের সীমান্তের দিকে চলে যেতে দেয়া হোক। সেখানে তিনি মৃত্যু পর্যন্ত বসবাস করবেন এবং রাজ্যের সীমানা পাহারা দেয়ার কাজে আত্ম নিয়োগ করবেন। (ইবনে জারীর হাসান সনদে বর্ণনা করেছেন)
ইয়াজিদের সৈন্যরা কোন প্রস্তাবই মানতে রাজী হল না। তারা বলল: উবাইদুল্লাহ বিন যিয়াদ যেই ফয়সালা দিবেন আমরা তা ব্যতীত অন্য কোন প্রস্তাব মানতে রাজী নই। এই কথা শুনে উবাইদুল্লাহএর এক সেনাপতি (হুর বিন ইয়াজিদ) বললেন: এরা তোমাদের কাছে যেই প্রস্তাব পেশ করছে তা কি তোমরা মানবে না? আল্লাহর কসম! তুর্কী এবং দায়লামের লোকেরাও যদি তোমাদের কাছে এই প্রার্থনাটি করত, তাহলে তা ফেরত দেয়া তোমাদের জন্য বৈধ হত না। এরপরও তারা উবাইদুল্লাহএর সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতেই দৃঢ়তা প্রদর্শন করল। সেই সেনাপতি ঘোড়া নিয়ে সেখান থেকে চলে আসলেন এবং হুসাইন ও তাঁর সাথীদের দিকে গমন করলেন। হুসাইনের সাথীগণ ভাবলেন: তিনি তাদের সাথে যুদ্ধ করতে আসছেন। তিনি কাছে গিয়ে সালাম দিলেন। অতঃপর সেখান থেকে ফিরে এসে উবাইদুল্লাহএর সৈনিকদের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হয়ে তাদের দুইজনকে হত্যা করলেন। অতঃপর তিনিও নিহত হলেন। (ইবনে জারীর হাসান সনদে বর্ণনা করেছেন)
সৈন্য সংখ্যার দিক থেকে হুসাইনের সাথী ও ইয়াজিদের সৈনিকদের মধ্যে বিরাট ব্যবধান ছিল। হুসাইনের সামনেই তাঁর সকল সাথী বীরত্বের সাথে যুদ্ধ করে নিহত হলেন। অবশেষে তিনি ছাড়া আর কেউ জীবিত রইলেন না। তিনি ছিলেন সিংহের মত সাহসী বীর। কিন্তু সংখ্যাধিক্যের মুকাবিলায় তার পক্ষে ময়দানে টিকে থাকা সম্ভব হল না। কুফা বাসী প্রতিটি সৈনিকের কামনা ছিল সে ছাড়া অন্য কেউ হুসাইনকে হত্যা করে ফেলুক। যাতে তার হাত রাসূলের দৌহিত্রের রক্তে রঙ্গিন না হয়। পরিশেষে নিকৃষ্ট এক ব্যক্তি হুসাইনকে হত্যার জন্য উদ্যত হয়। তার নাম ছিল সীমার বিন যুল জাওশান। সে বর্শা দিয়ে হুসাইনের শরীরে আঘাত করে ধরাশায়ী করে ফেলল। অতঃপর ইয়াজিদ বাহিনীর সম্মিলিত আক্রমণে তিনি শাহাদাত অর্জনের সৌভাগ্য লাভ করেন।
বলা হয় এই সীমারই হুসাইনের মাথা দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন করেছে। কেউ কেই বলেন: সিনান বিন আনাস আন্ নাখঈ নামক এক ব্যক্তি তাঁর মাথা দেহ থেকে আলাদা করে। আল্লাহই ভাল জানেন।

৩) ফুরাত নদীর পানি পান করা থেকে বিরত রাখার কিচ্ছা:

বেশ কিছু গ্রন্থ তাকে ফুরাত নদীর পানি পান করা থেকে বিরত রাখার ঘটনা বর্ণনা করে থাকে। আর বলা হয় যে, তিনি পানির পিপাসায় মারা যান। এ ছাড়াও আরও অনেক কথা বলে মানুষকে আবেগময় করে যুগে যুগে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে এবং মূল সত্যটি উপলব্ধি করতে তাদেরকে বিরত রাখার হীন ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। এ সব কাল্পনিক গল্পের কোন ঐতিহাসিক ভিত্তি নেই। ঘটনার যতটুকু সহীহ সূত্রে বর্ণিত হয়েছে আমাদের জন্য ততটুকুই যথেষ্ট। কোন সন্দেহ নেই যে, কারবালার প্রান্তরে হুসাইন নিহত হওয়ার ঘটনা অত্যন্ত বেদনা দায়ক। ধ্বংস হোক হুসাইনের হত্যাকারীগণ! ধ্বংস হোক হুসাইনের হত্যায় সহযোগীরা! আল্লাহর ক্রোধ তাদেরকে ঘেরাও করুক। আল্লাহ্‌ তায়ালা রাসূলের দৌহিত্র শহীদ হুসাইন এবং তাঁর সাথীদেরকে আল্লাহ তায়ালা স্বীয় রহমত ও সন্তুষ্টি দ্বারা আচ্ছাদিত করুক।

৪) কারবালার প্রান্তরে হুসাইনের সাথে আরও যারা নিহত হয়েছেন:

• আলী (রা:)এর সন্তানদের মধ্যে থেকে আবু বকর, মুহাম্মাদ, উসমান, জাফর এবং আব্বাস।
• হোসাইনের সন্তানদের মধ্যে হতে আবু বকর, উমর, উসমান, আলী আকবার এবং আব্দুল্লাহ।
• হাসানের সন্তানদের মধ্যে হতে আবু বকর, উমর, আব্দুল্লাহ এবং কাসেম।
• আকীলের সন্তানদের মধ্যে হতে জাফর, আব্দুর রাহমান এবং আব্দুল্লাহ বিন মুসলিম বিন আকীল।
• আব্দুল্লাহ বিন জাফরের সন্তানদের মধ্যে হতে আউন এবং আব্দুল্লাহ। ইতি পূর্বে উবাইদুল্লাহ বিন জিয়াদের নির্দেশে মুসলিম বিন আকীলকে হত্যা করা হয়। আল্লাহ তাদের উপর সন্তুষ্ট হোন। আমীন

৫) কারবালার ঘটনাকে কেন্দ্র করে যে সমস্ত ধারণা ঠিক নয়:
হুসাইন ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের মৃত্যুতে আকাশ থেকে রক্তের বৃষ্টি হওয়া, সেখানের কোন পাথর উঠালেই তার নীচ থেকে রক্ত প্রবাহিত হওয়া এবং কোন উট জবাই করলেই তা রক্তে পরিণত হয়ে যাওয়ার ধারণা মিথ্যা ও বানোয়াট। মুসলমানদের আবেক ও অনুভূতিকে জাগিয়ে তুলে তাদেরকে বিভ্রান্ত করার জন্যই এ সমস্ত বানোয়াট ঘটনা বলা হয়ে থাকে। এগুলোর কোন সহীহ সনদ নেই।
ইমাম ইবনে কাছীর (র:) বলেন: হুসাইনের মৃত্যুর ঘটনায় লোকেরা উল্লেখ করে থাকে যে, সে দিন কোন পাথর উল্টালেই রক্ত বের হত, সে দিন সূর্যগ্রহণ হয়েছিল, আকাশের দিগন্ত লাল হয়ে গিয়েছিল এবং আকাশ থেকে পাথর বর্ষিত হয়েছিল। এসব কথা সন্দেহ মূলক। প্রকৃত কথা হচ্ছে, এগুলো বিশেষ একটি গোষ্ঠীর বানোয়াট ও মিথ্যা কাহিনী ছাড়া আর কিছুই নয়। তারা বিষয়টিকে বড় করার জন্য এগুলো রচনা করেছে।
কোন সন্দেহ নেই যে, কারবালার ময়দানে সপরিবারে হুসাইনের শাহাদাত বরণ একটি বিরাট ঘটনা। কিন্তু তারা এটিকে কেন্দ্র করে যে মিথ্যা রচনা করেছে, তার কোনটিই সংঘটিত হয় নি।
ইসলামের ইতিহাসে হুসাইনের মৃত্যুর চেয়ে অধিক ভয়াবহ ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। সে সমস্ত ঘটনায় উপরোক্ত বিষয়গুলোর কোনটিই সংঘটিত হয় নি। হুসাইনের পিতা আলী (রা:) আব্দুর রাহমান মুলজিম খারেজীর হাতে নির্মম ভাবে নিহত হন। সকল আলেমের ঐকমতে হুসাইনের চেয়ে আলী (রা:) অধিক শ্রেষ্ঠ ও সম্মানিত ছিলেন। তার শাহাদাতের দিন কোন পাথর উল্টালেই রক্ত বের হয় নি, সে দিন সূর্যগ্রহণ হয় নি, আকাশের দিগন্ত লাল হয়ে যায় নি এবং আকাশ থেকে পাথরও বর্ষিত হওয়ারও কোন প্রমাণ নেই।
উসমান বিন আফফান (রা:)এর বাড়ি ঘেরাও করে বিদ্রোহীরা তাঁকে হত্যা করে। তিনি মজলুম অবস্থায় শাহাদাত বরণ করেন। তাঁর মৃত্যুতে এসবের কোনটিই সংঘটিত হয় নি। উসমান (রা:)এর পূর্বে খলীফাতুল মুসলিমীন উমর ইবনুল খাত্তাব ফজরের নামাযে দাঁড়ানোর সময় নির্মমভাবে নিহত হন। এই ঘটনায় মুসলিমগণ এমন মুসীবতে পড়েছিলেন, যা ইতিপূর্বে কখনও পড়েন নি। তাতে উপরোক্ত লক্ষণগুলো দেখা যায় নি।
আল্লাহর সর্বশেষ্ঠ বান্দা সমগ্র নবী-রাসূলের সরদার রাহমাতুল লিল আলামীন মৃত্যু বরণ করেছেন। তাঁর মৃত্যুতে এমন কিছু সংঘটিত হয় নি। যেদিন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শিশু পুত্র ইবরাহীম মৃত্যু বরণ করেন, সেদিন সূর্যগ্রহণ লেগেছিল। লোকেরা বলতে লাগল: ইবরাহীমের মৃত্যুতে আজ সূর্যগ্রহণ হয়েছে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সূর্যগ্রহণের নামায আদায় করলেন এবং খুতবা প্রদান করলেন। খুতবায় তিনি বর্ণনা করলেন যে, সূর্য এবং চন্দ্র কারও মৃত্যু বা জন্ম গ্রহণের কারণে আলোহীন হয় না। এগুলো আল্লাহর নিদর্শন। তিনি এগুলোর মাধ্যমে তাঁর বান্দাদেরকে ভয় দেখিয়ে থাকেন।

৬) হুসাইনের বের হওয়া ন্যায় সংগত ছিল কি?
বিজ্ঞ সাহাবীদের মতে কুফার উদ্দেশ্যে হুসাইনের বের হওয়াতে কল্যাণের কোন লক্ষণ পরিলক্ষিত হয় নি। এ জন্যই অনেক সাহাবী তাঁকে বের হতে নিষেধ করেছেন এবং তাঁকে বিরত রাখার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু তিনি বিরত হন নি। কুফায় যাওয়ার কারণেই ঐ সমস্ত জালেম ও স্বৈরাচারেরা রাসূলের দৌহিত্রকে শহীদ করতে সক্ষম হয়েছিল। তার বের হওয়া এবং নিহত হওয়াতে যে পরিমাণ ফিতনা ও ফসাদ সৃষ্টি হয়েছিল, মদিনায় অবস্থান করলে তা হওয়ার ছিল না। কিন্তু মানুষের অনিচ্ছা সত্ত্বেও আল্লাহর নির্ধারিত ফয়সালা ও তকদীরের লিখন বাস্তবে পরিণত হওয়া ছাড়া ভিন্ন কোন উপায় ছিল না। হুসাইনের হত্যায় বিরাট বড় অন্যায় সংঘটিত হয়েছে, কিন্তু তা নবীদের হত্যার চেয়ে অধিক ভয়াবহ ছিল না। আল্লাহর নবী ইয়াহ-ইয়া (আঃ)কে পাপিষ্ঠরা হত্যা করেছে। জাকারিয়া (আঃ)কেও তাঁর জাতির লোকেরা নির্মমভাবে শহীদ করেছে। এমনি আরও অনেক নবীকে বনী ইসরাইলরা কতল করেছে। আল্লাহ তায়ালা বলেন:
قل قد جاءكم رسل من قبلي بالبينات وبالذي قلتم فلم قتلتموهم إن كنتم صادقين
“তুমি তাদের বলে দাও, তোমাদের মাঝে আমার পূর্বে বহু রসূল নিদর্শনসমূহ এবং তোমরা যা আবদার করেছ তা নিয়ে এসেছিলেন, তখন তোমরা কেন তাদেরকে হত্যা করলে যদি তোমরা সত্য হয়ে থাক।” (সূরা আল-ইমরান: ১৮৩)
এমনভাবে উমর, উসমান ও আলী (রা:)কেও হত্যা করা হয়েছে। সুতরাং তাঁর হত্যা কাণ্ড নিয়ে অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি করার কোন যুক্তি নেই।

৭) কারবালার ঘটনাকে আমরা কিভাবে মূল্যায়ন করব?
যে মুসলিম আল্লাহকে ভয় করে তার জন্য হুসাইনের নিহত হওয়ার ঘটনা স্মরণ করে বিলাপ করা, শরীর জখম করা, গাল, মাথা ও বুক থাবড়ানো বা এ রকম অন্য কিছু করা জায়েজ নেই। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন:

ليس منا من لطم الخدود و شق الجيوب
“যে ব্যক্তি মুসীবতে পড়ে নিজ গালে চপেটাঘাত করল এবং শরীরের কাপড় ছিঁড়ল, সে আমাদের দলের নয়।” (বুখারী)
তিনি আরও বলেন:
“মুসীবতে পড়ে বিলাপকারী, মাথা মুন্ডনকারী এবং কাপড় ও শরীর কর্তনকারীর সাথে আমার কোন সম্পর্ক নেই।”
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরও বলেন:

إن النائحة إذا لم تتب فإنها تلبس يوم القيامة درعاً من جرب و سربالاً من قطران
“মৃত ব্যক্তির উপর বিলাপকারী যদি তওবা না করে মারা যায়, তাকে কিয়ামতের দিন খাঁজলীযুক্ত (লোহার কাঁটাযুক্ত) কোর্তা পড়ানো হবে এবং আলকাতরার প্রলেপ লাগানো পায়জামা পড়ানো হবে।” (মুসলিম)
তিনি আরও বলেন:
أربع في أمتي من أمر الجاهلية لا يتركونهن: الفخر في الأحساب و الطعن في الأنساب و الاستسقاء بالنجوم و النياحة
“আমার উম্মতের মধ্যে জাহেলী যুগের চারটি স্বভাব বিদ্যমান রয়েছে। তারা তা ছাড়তে পারবে না।
(১) বংশ মর্যাদা নিয়ে গর্ব করা,
(২) মানুষের বংশের নাম তুলে দুর্নাম করা,
(৩) তারকারাজির মাধ্যমে বৃষ্টি প্রার্থনা করা এবং
(৪) মৃত ব্যক্তির উপর বিলাপ করা। তিনি আরও বলেন: মানুষের মাঝে দুটি জিনিষ রয়েছে, যা কুফরীর অন্তর্ভুক্ত। মানুষের বংশের বদনাম করা এবং মৃত ব্যক্তির উপর বিলাপ করা।” (মুসলিম)
তিনি আরও বলেন:

النياحة من أمر الجاهلية و إن النائحة إذا ماتت و لم تتب قطع الله لها ثيابا من قطران و درعاً من لهب النار

“মৃত ব্যক্তির উপর বিলাপ করা জাহেলিয়াতের অন্তর্ভুক্ত। বিলাপকারী যদি তওবা না করে মারা যায়, তাকে কিয়ামতের দিন আল্লাহ আলকাতরার প্রলেপ লাগানো জামা পড়াবেন এবং অগ্নি শিখা দ্বারা নির্মিত কোর্তা পরাবেন।” (ইবনে মাজাহ)
একজন বিবেকবান মুসলিমের উপর আবশ্যক হচ্ছে সে এ ধরণের মুসীবতের সময় আল্লাহর নির্দেশিত কথা বলবে। আল্লাহ্‌ তায়ালা বলেন:

الذين إذا أصابتهم مصيبة قالوا إنا لله وإنا إليه راجعون
“যখন তাঁরা বিপদে পতিত হয়, তখন বলে, নিশ্চয়ই আমরা সবাই আল্লাহর জন্য এবং আমরা সবাই তারই সান্নিধ্যে ফিরে যাবো।” (সূরা বাকারাঃ ১৫৬)
হুসাইনের মৃত্যুর পর তাঁর পুত্র আলী বিন হুসাইন, মুহাম্মাদ এবং জাফর জীবিত ছিলেন। তাদের কেউ হুসাইনের মৃত্যুতে মাতম করেছেন বলে প্রমাণ পাওয়া যায় না। তারা ছিলেন আমাদের হেদায়েতের ইমাম ও আদর্শ।
বিলাপ করা, গাল ও বুকে চপেটাঘাত করা বা এ জাতীয় অন্য কোন কাজ কখনই এবাদত হতে পারে না। আশুরার দিনে ক্রন্দনের ফজিলতে যে সমস্ত বর্ণনা উল্লেখ করা হয় তার কোনটিই বিশুদ্ধ নয়। বিলাপ করা জাহেলী জামানার আচরণ বলে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদেরকে তা থেকে বিরত থাকার আদেশ দিয়েছেন।

৮) মৃত ব্যক্তির উপর বিলাপ করার ক্ষেত্রে শিয়া মাজহাবের মতামত:

বিলাপ থেকে বিরত থাকার আদেশ শুধু সুন্নি মুসলিম বা বনী উমাইয়াদের জন্য নয় কিংবা এটি কেবল তাদেরই আচরণ নয় যে, শিয়ারা তা গ্রহণ করতে পারেন না; বরং আহলে বাইতের কথাও তাই। আহলে সুন্নত এবং শিয়া উভয় শ্রেণীর নিকটই মৃত ব্যক্তির উপর বিলাপ করা নিষিদ্ধ।
শিয়া আলেম ইবনে বাবুওয়াই আল-কুম্মী বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:
বিলাপ করা জাহেলী জামানার কাজ। (দেখুন শিয়াদের কিতাব: من لايحضره الفقيه)
মাজলেসী থেকে অপর বর্ণনায় এসেছে,

النياحة عمل الجاهلية
অর্থাৎ মৃত ব্যক্তির উপর উচ্চ স্বরে রোদন করা জাহেলিয়াতের কাজ। (দেখুন: বিহারুল আনওয়ার ১০/৮২)
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে এ ধরণের নিষেধাজ্ঞার কারণেই আহলে সুন্নত ওয়াল জামআতের লোকেরা যে কোন মুসীবতের সময় মাতম ও বিলাপ করা থেকে বিরত থাকেন।

৯) আশুরার দিনে আমাদের করণীয় কীঃ
সুন্নি মুসলিমগণ এই দিনে রোজা রাখেন। কারণ এটি এমন একটি দিন যাতে আল্লাহ তায়ালা মুসা ও তাঁর জাতির লোকদেরকে ফেরাউনের কবল থেকে মুক্তি দিয়েছেন এবং ফেরাউন সম্প্রদায়কে পানিতে ডুবিয়ে ধ্বংস করেছেন। আহলে সুন্নত ওয়াল জামআতের লোকেরা মনে করেন, খালেস দিলে রোজা অবস্থায় হুসাইনের জন্য দুয়া করা জাহেলী জামানার আচরণের মত মাতম ও বিলাপ করার চেয়ে অনেক উত্তম। এ দিনে রোজাদারের জন্য দুটি কল্যাণ রয়েছে। একটি হচ্ছে সম্মানিত দিনে রোজা রাখার ফযিলত আর অন্যটি হচ্ছে, রোজা অবস্থায় দুয়া করার ফজিলত। এই দুআর একটি অংশ বা সম্পূর্ণটাই তিনি ইচ্ছা করলে হুসাইনের জন্য করতে পারেন।
আশুরার দিনে রোজা রাখার ফজিলতে যা বর্ণিত হয়েছে:

عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِي اللَّه عَنْهمَا أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّه عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَمَّا قَدِمَ الْمَدِينَةَ وَجَدَهُمْ يَصُومُونَ يَوْمًا يَعْنِي عَاشُورَاءَ فَقَالُوا هَذَا يَوْمٌ عَظِيمٌ وَهُوَ يَوْمٌ نَجَّى اللَّهُ فِيهِ مُوسَى وَأَغْرَقَ آلَ فِرْعَوْنَ فَصَامَ مُوسَى شُكْرًا لِلَّهِ فَقَالَ أَنَا أَوْلَى بِمُوسَى مِنْهُمْ فَصَامَهُ وَأَمَرَ بِصِيَامِهِ
“আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা:) বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মদিনায় আগমন করে দেখলেন ইহুদীরা আশুরার দিন রোজা রাখছে। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: এটি কোন রোজা। তারা উত্তর দিল যে, এটি একটি বিরাট পবিত্র দিন। এদিনে আল্লাহ তাআলা বনী ইসরাইলকে তাদের শত্র“দের কবল থেকে পরিত্রাণ দিয়েছেন। তাই মুসা (আঃ) এ দিন রোজা রেখেছেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তখন বললেন: তাদের চেয়ে মুসা (আঃ)এর সাথে আমার সম্পর্ক অধিক। সুতরাং তিনি রোজা রাখলেন এবং সাহাবীদেরকে রোজা রাখার আদেশ দিয়েছেন।” (বুখারী)

عَنْ عَائِشَةَ رَضِي اللَّه عَنْهَا قَالَتْ كَانَ يَوْمُ عَاشُورَاءَ تَصُومُهُ قُرَيْشٌ فِي الْجَاهِلِيَّةِ وَكَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّه عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَصُومُهُ فَلَمَّا قَدِمَ الْمَدِينَةَ صَامَهُ وَأَمَرَ بِصِيَامِهِ فَلَمَّا نَزَلَ رَمَضَانُ كَانَ رَمَضَانُ الْفَرِيضَةَ وَتُرِكَ عَاشُورَاءُ فَكَانَ مَنْ شَاءَ صَامَهُ وَمَنْ شَاءَ لَمْ يَصُمْهُ (بخارى(
“আয়েশা (রা:) বলেন: আইয়ামে জাহেলিয়াতেও কুরাইশরা আশুরার রোজা রাখত। রাসূল সাল্লাহু আলাইহি ওয়া সালামও এ দিনে রোজা রাখতেন। মদিনায় হিজরত করে এসেও তিনি এ দিন রোজা রেখেছেন এবং লোকদেরকে রোজা রাখার আদেশ দিয়েছেন। যখন রমাযানের রোজা রাখা ফরজ করা হল তখন আশুরার রোজা ছেড়ে দিলেন। সুতরাং তখন থেকে যার ইচ্ছা রোজা রাখত আর যার ইচ্ছা রোজা রাখা ছেড়ে দিত।” (বুখারী)
আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা:) হতে আরও বর্ণিত হয়েছে যে,
حِينَ صَامَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّه عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَوْمَ عَاشُورَاءَ وَأَمَرَ بِصِيَامِهِ قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّهُ يَوْمٌ تُعَظِّمُهُ الْيَهُودُ وَالنَّصَارَى فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهم عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَإِذَا كَانَ الْعَامُ الْمُقْبِلُ إِنْ شَاءَ اللَّهُ صُمْنَا الْيَوْمَ التَّاسِعَ قَالَ فَلَمْ يَأْتِ الْعَامُ الْمُقْبِلُ حَتَّى تُوُفِّيَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّه عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন আশুরার রোজা রাখলেন এবং রোজা রাখার আদেশ দিলেন, তখন সাহাবীগণ বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! এটি তো এমন একটি দিন, যাতে ইয়াহুদ-নাসারারাও সম্মান করে। তখন রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: আগামী বছর ইনশা-আল্লাহ্‌ নয় তারিখেও রোজা রাখবো। কিন্তু আগামী বছর আসার আগেই তিনি ইন্তেকাল করেছেন। (বুখারী)

১০) শিয়াদের বর্ণনায় আশুরার রোজা:
আলী বিন আবু তালেব (রা:) বলেন:

صوموا العاشوراء ، التاسع والعاشر ، فإنّه يكفّر الذنوب سنة
তোমরা আশুরার অর্থাৎ নয় এবং দশ তারিখে রোজা রাখো। কেননা ইহা পূর্বের এক বছরের গুনাহকে মোচন করে দেয়। (দেখুন: الاستبصار ২/১৩৪ (الحر العاملي في وسائل الشيعة৭/৩৩৭)
জাফর (রা:) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে,
আশুরার রোজা এক বছরের গুনাহর কাফফারা স্বরূপ।

১১) আশুরার দিনে মাতম করার ভিত্তি কোথায়?
বর্তমানে আশুরার দিনে হুসাইনীয়াত নামে যে অনুষ্ঠান, মাতম, বুক ও গাল থাবড়ানো, উচ্চ স্বরে ক্রন্দন এবং বিলাপ করে থাকে তার কোন ভিত্তি নেই। আহলে বাইতের মাজহাবেও তার কোন দলীল নেই এবং সর্বোপুরি ইসলামী আকীদার সাথে এর কোন সম্পর্ক নেই। শিয়ারা যেহেতু বলে থাকে মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যা হালাল করেছেন কিয়ামত পর্যন্ত তা ছাড়া অন্য কিছু হালাল নয় এবং তিনি যা হারাম করেছেন কিয়ামত পর্যন্ত তা ছাড়া অন্য কিছু হারাম নেই সেহেতু তাদের কাছে প্রশ্ন হল: আপনারা যদি উপরোক্ত কথাটি বিশ্বাস করেন তাহলে বাক্যটির বাস্তবায়ন কোথায়? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কর্তৃক নিষিদ্ধ জাহেলী জামানার একটি অভ্যাসকে আপনারা ইসলাম ও আহলে বাইতের নিদর্শন নির্ধারণ করেছেন কেন?
আশ্চর্যের কথা হচ্ছে তাদের মাশায়েখগণ আশুরার দিনে মাতম ও হায় হুসাইন হায় হুসাইন বলে চিৎকার করাকে আল্লাহর নিদর্শন বলে উল্লেখ করে নিম্নের আয়াতটিকে দলীল হিসেবে পেশ করে থাকেন। আল্লাহ্‌ তায়ালা বলেন:

ذَلِكَ وَمَنْ يُعَظِّمْ شَعَائِرَ اللَّهِ فَإِنَّهَا مِنْ تَقْوَى الْقُلُوبِ
এটা শ্রবণযোগ্য। কেউ আল্লাহর নিদর্শনসমূহের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করলে তা তো তার হৃদয়ের অল্লাহ্ভীতি প্রসূত। (সূরা হজ্জ: ৩২)
অতএব তারা বিলাপ করা, গাল ও বুক থাবড়ানো, আল্লাহর বান্দা ও রাসূলের সাহাবীদেরকে গালাগালি করাকে আল্লাহর সম্মানিত নিদর্শন মনে করেই করে থাকেন। এর চেয়ে অধিক মূর্খতা আর কি হতে পারে?
আরও আশ্চর্যের কথা হচ্ছে আশুরার রোজার ব্যাপারে সুস্পষ্ট হাদীছ থাকা সত্ত্বেও এগুলোকে তারা জেনেও না জানার ভান করে থাকেন। অপর পক্ষে তাদের আলেমগণ এই বর্ণনাগুলোকে বারবার আহলে সুন্নত ও বনী উমাইয়াদের বানানো বলে অপবাদ দিয়ে থাকেন। তারা আরও বলেন যে, বনী উমাইয়াগণ হুসাইনের মৃত্যু উপলক্ষে অনুষ্ঠান করার জন্য এই রোজার প্রচলন করেছেন। (নাউযুবিল্লাহ্) অথচ সুন্নি ও শিয়া উভয় মাজহাবের হাদীছের কিতাবেই এই রোজার ফজিলত বর্ণিত হয়েছে। রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম), তাঁর পবিত্র পরিবার এবং সাহাবীগণ আশুরার রোজা রেখেছেন। তিনি মুসলিমদেরকে রোজা রাখার আদেশ দিয়েছেন।
এখন তাদের কাছে প্রশ্ন হল: যে ব্যক্তি আশুরার দিনে রোজা রেখে, জিকির-আজকার করে, কুরআন তেলাওয়াত করে এবং অন্যান্য এবাদতের মাধ্যমে এই দিন অতিবাহিত করে সে হুসাইনের মৃত্যুতে আনন্দের অনুষ্ঠান করল? না যে ব্যক্তি মানুষের মাঝে গোশত, খাদ্য-পানীয় এবং অন্যান্য বস্তু বিতরণ করল এবং বিভিন্ন শির্কী কবিতা আবৃতি করে রাত পার করে দিল সে হুসাইনের মৃত্যু উদযাপন করল? মূলত: তাদের কথার মধ্যে সুস্পষ্ট স্ববিরোধীতা রয়েছে।

১২) হুসাইনের হত্যায় ইয়াজিদ কতটুকু দায়ী?

প্রথমেই বলে নিতে চাই যে আমার এই কথা ইয়াজিদের পক্ষে উকালতি করার জন্য নয়; বরং মূল সত্যকে বিশ্বের সকল বাংলাভাষী মুসলিমের সামনে তুলে ধরার জন্যে।
শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমীয়া (র:) বলেন: সকল মুহাদ্দিস ও ঐতিহাসিকের ঐকমতে ইয়াজিদ বিনম মুয়াবিয়া হুসাইনকে হত্যার আদেন দেন নি। বরং তিনি উবাইদুল্লাহ বিন যিয়াদকে চিঠির মাধ্যমে আদেশ দিয়েছিলেন যে, তিনি যেন ইরাকের জমিনে হুসাইনকে কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে বাঁধা দেন। এতটুকুই ছিল তার ভূমিকা। বিশুদ্ধ মতে তার কাছে যখন হুসাইন নিহত হওয়ার খবর পৌঁছল তখন তিনি আফসোস করেছেন। ইয়াজিদের বাড়িতে কান্নার ছাপ প্রকাশিত হয়েছিল। তিনি হুসাইন পরিবারের কোন মহিলাকে বন্দী বা দাসীতে পরিণত করেন নি; বরং পরিবারের সকল সদস্যকে সম্মান করেছেন। সসম্মানে হুসাইন পরিবারের জীবিত সদস্যদেরকে মদিনায় পাঠানোর ব্যবস্থা করেছেন।
যে সমস্ত রেওয়াতে বলা হয়েছে যে, ইয়াজিদ আহলে বাইতের মহিলাদেরকে অপদস্থ করেছেন এবং তাদেরকে বন্দী করে দামেস্কে নিয়ে বেইজ্জতি করেছেন, তার কোন ভিত্তি নেই। বনী উমাইয়াগণ বনী হাশেমকে খুব সম্মান করতেন। হাজ্জাজ বিন ইউসুফ যখন ফাতেমা বিনতে আব্দুল্লাহ বিন জাফরকে বিয়ে করলেন তখন আব্দুল মালিক বিন মারওয়ান এই বিয়ে মেনে নেন নি। তিনি হাজ্জাজকে বিয়ে বিচ্ছিন্ন করার আদেশ দিয়েছেন।
শুধু তাই নয় হুসাইন হত্যার জন্য দায়ী উবাইদুল্লাহ বিন জিয়াদের কাছে যখন হুসাইনের পরিবারের মহিলাদেরকে উপস্থিত করা হল তখন তিনি আলাদাভাবে তাদের জন্য একটি ঘরের ব্যবস্থা করলেন এবং তাদের ভরণ-পোষণ ও পরিধেয় বস্ত্রের ব্যবস্থা করলেন। (ইবনে জারীর হাসান সনদে বর্ণনা করেছেন)
ঐতিহাসিক ইজ্জত দাররুযা বলেন: হুসাইন হত্যার জন্য ইয়াজিদকে সরাসরি দায়ী করার কোন দলীল নেই। তিনি তাঁকে হত্যার আদেশ দেন নি। তিনি যেই আদেশ দিয়েছেন, তার সার সংক্ষেপ হচ্ছে, তাঁকে ঘেরা করা হোক এবং তিনি যতক্ষণ যুদ্ধ না করবেন ততক্ষণ যেন তাঁর বিরুদ্ধে অস্ত্র ধারণ না করা হয়।
ইমাম ইবনে কাছীর (র:) বলেন: এটি প্রায় নিশ্চিত যে ইয়াজিদ যদি হুসাইনকে জীবিত পেতেন, তাহলে তাঁকে হত্যা করতেন না। তাঁর পিতা মুআভীয়া (রা:) তাকে এ মর্মে অসীয়তও করেছিলেন। ইয়াজিদ এই কথাটি সুস্পষ্টভাবেই ঘোষণা করেছিলেন।

১৩) তাহলে কে হুসাইনকে হত্যা করল:
এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। কে হুসাইনকে হত্যা করল। সুন্নি মুসলিমগণ? আমীর মুআভীয়া? ইয়াজিদ বিন মুআভীয়া? না অন্য কেউ?
উত্তরটি মেনে নেওয়া অনেক মুসলিমের পক্ষে অত্যন্ত কঠিন হলেও তা প্রকাশ না করে পারছি না। প্রকৃত ও সঠিক তথ্য হল শিয়াদের একাধিক কিতাব বলছে যে, শিয়ারাই (ইরাক বাসীরাই) হুসাইনকে হত্যা করেছে।
সায়্যেদ মুহসিন আল-আমীন বলেন: বিশ হাজার ইরাক বাসী হুসাইনের পক্ষে বয়াত নেয়। পরবর্তীতে তারা তাঁর সাথে খেয়ানত করেছে, তাঁর বিরুদ্ধেই বিদ্রোহ করেছে এবং তাঁকে হত্যা করেছে। (দেখুন: আয়ানুশ শিয়া ১/৩৪)

১৪) হুসাইনের হত্যাকারী নির্ধারণে ইবনে উমর (রা:)এর অভিমত:
ইবনে আবী নু’ম হতে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেন:

كُنْتُ شَاهِدًا لاِبْنِ عُمَرَ وَسَأَلَهُ رَجُلٌ عَنْ دَمِ الْبَعُوضِ فَقَالَ مِمَّنْ أَنْتَ فَقَالَ مِنْ أَهْلِ الْعِرَاقِ . قَالَ انْظُرُوا إِلَى هَذَا يَسْأَلُنِى عَنْ دَمِ الْبَعُوضِ وَقَدْ قَتَلُوا ابْنَ النَّبِىِّ صلى الله عليه وسلم وَسَمِعْتُ النَّبِىَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ هُمَا رَيْحَانَتَاىَ مِنَ الدُّنْيَا

আমি একদা আব্দুল্লাহ ইবনে উমরের নিকট উপস্থিত ছিলাম। তখন একজন লোক তাঁকে মশা হত্যা করার হুকুম জানতে চাইল। তিনি তখন লোকটিকে জিজ্ঞেস করলেন: তুমি কোন দেশের লোক? সে বলল: ইরাকের। ইবনে উমর (রা:) তখন উপস্থিত লোকদেরকে লক্ষ্য করে বললেন: তোমরা এই লোকটির প্রতি লক্ষ্য কর। সে আমাকে মশা হত্যা করার হুকুম জিজ্ঞেস করছে। অথচ তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নাতিকে হত্যা করেছে। আর আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, এরা দুজন (হাসান ও হুসাইন) আমার দুনিয়ার দুটি ফুল। (বুখারী, হাদীছ নং- ৫৯৯৪) অন্য বর্ণনায় মশার স্থলে মাছির কথা এসেছে।

১৫) হুসাইনের ভাষণই প্রমাণ করে যে ইয়াজিদ তাঁর হত্যার জন্য সরাসরি দায়ী নয়:

হুসাইন (রা:) নিহত হওয়ার পূর্বে ইরাক বাসীদেরকে ডেকে বলেছেন: তোমরা কি পত্রের মাধ্যমে আমাকে এখানে আসতে আহবান করো নি? আমাকে সাহায্য করার ওয়াদা করো নি? অকল্যাণ হোক তোমাদের! যেই অস্ত্র দিয়ে আমরা ও তোমরা মিলে ইসলামের শত্র“দের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছি এখন সেই অস্ত্র তোমরা আমাদের বিরুদ্ধে চালাতে যাচ্ছে। মাছি যেমন উড়ে যায় তেমনি তোমরা আমার পক্ষে কৃত বয়াত থেকে সড়ে যাচ্ছ, পোঁকা-মাকড়ের ন্যায় তোমরা উড়ে যাচ্ছ এবং সকল ওয়াদা-অঙ্গীকার ভঙ্গ করেছ। ধ্বংস হোক এই উম্মতের তাগুতের দলেরা! (দেখুন আল-ইহতেজাজ লিত্ তাবরুসী)
ইমাম হুসাইনের এই ভাষণের কোন স্থানেই তিনি ইয়াজিদকে দায়ী করেন নি। ঘুরেফিরে ভাষণটি এই কথার প্রমাণ করে যে, তাঁর করুন পরিস্থিতির জন্য ইরাক বাসীগণই।
অতঃপর হুর বিন ইয়াজিদ নামক হুসাইনের একজন সমর্থক কারবালার প্রান্তরে দাড়িয়ে ইরাক বাসী সৈনিকদেরকে ডাক দিয়ে বললেন: তোমরা কি এই নেককার বান্দাকে এখানে আসতে আহবান করো নি? তিনি যখন তোমাদের কাছে এসেছেন তখন তোমরা তাঁকে পরিত্যাগ করেছ এবং তাঁকে হত্যা করার জন্য তাঁর শত্রুতে পরিণত হয়েছ। আর তিনি এখন তোমাদের হাতে বন্দী হয়েছেন। আল¬াহ যেন কিয়ামতের দিন তোমাদের পিপাসা না মেটান এবং তার উপযুক্ত শাস্তি প্রদান করেন! (দেখুন: الإرشاد للمفيد ২৩৪ ، إعلام الورى بأعلام الهدى)
এই পর্যায়ে হুসাইন তাঁর পূর্বের সমর্থকদের বিরুদ্ধে একটি বদদুআ করলেন। তিনি বলেন:

اللهم إن متعتهم إلى حين ففرقهم فرقاً أي شيعاً وأحزاباً واجعلهم طرائق قددا و لا ترض الولاة عنهم أبدا ، فإنهم دعونا لينصرونا ، ثم عدوا علينا فقتلونا (انظر الإرشاد للمفيد২৪১، إعلام الورى للطبرسي ৯৪৯، كشف الغمة ১৮:২و৩৮
“হে আল্লাহ! আপনি যদি তাদের হায়াত দীর্ঘ করেন, তাহলে তাদের দলের মাঝে বিভক্তি সৃষ্টি করে দিন। তাদেরকে দলে দলে বিচ্ছিন্ন করে দিন। তাদের শাসকদেরকে তাদের উপর কখনই সন্তুষ্ট করবেন না। তারা আমাদেরকে সাহায্য করবে বলে ডেকে এনেছে। অতঃপর আমাদেরকে হত্যা করার জন্য উদ্যত হয়েছে।
হুসাইনের এই দুয়া প্রমাণ করে যে, ইয়াজিদ প্রত্যক্ষভাবে হুসাইনের হত্যায় জড়িত ছিল না। কেননা তিনি দুয়ায় বলেছেন: হে আল্লাহ! আপনি তাদের শাসকদেরকে তাদের উপর কখনই সন্তুষ্ট করবেন না। এ থেকে বুঝা যাচ্ছে যে, ইরাক বাসীগণ (শিয়াগণ) উমাইয়া শাসকদের সন্তুষ্টি অর্জনের আশায় হুসাইনের সাথে বিশ্বাস ঘাতকতা করেছে এবং তাঁর সাথে খেয়ানত করেছে। বাস্তবে তাই হয়েছে। পরবর্তীতে উবাইদুল্লাহ বিন যিয়াদকেও নির্মম ও নিকিৃষ্টভাবে হত্যা করা হয়েছে।

১৬) আলী বিন হুসাইন তাঁর পিতা হুসাইনকে হত্যার জন্য কুফা বাসীদেরকে দায়ী করেছেন?
শিয়া ঐতিহাসিক ইয়াকুবী বলেন: আলী বিন হুসাইন যখন কুফায় প্রবেশ করলেন তখন দেখলেন কুফার মহিলারা হুসাইন হত্যার বেদনায় ক্রন্দন এবং বিলাপ করছে। তিনি জিজ্ঞেস করলেনঃ এরা কি আমাদের হত্যায় বিলাপ করছে? তাহলে আমাদেরকে হত্যা করল কে? অর্থাৎ তারা ব্যতীত আমাদের পরিবারের লোক ও আত্মীয়দেরকে অন্য কেউ হত্যা করে নি (দেখুন: তারিখে ইয়াকুবে ১/২৩৫)
উপরে বর্ণিত পৃষ্ঠা নাম্বারসহ তাদের কিতাবগুলোর তথ্য প্রমাণ করে যে, যারা নিজেদরোকে হুসাইনের সমর্থক ও প্রেমিক বলে দাবী করেন, তারাই তাঁকে হত্যা করেছেন। অতঃপর এই মারাত্মক অপরাধের জ্বালা অন্তর থেকে দূর করার জন্য তারাই পরবর্তীতে কেঁদে বুক ভাসিয়েছেন এবং যাদের কান্না আসে নি, তারাও অযথা কান্নার ভান করেছেন। এই খেলা-তামাশা যুগ যুগ ধরে চলে আসছে এবং এখনও চলছে। তাদের অনুসারীরা এখনও হুসাইনের জানাজা বহন করছেন।
হুসাইনের মৃত্যুতে রোদন করা যদি আহলে বাইতের প্রতি তাদের প্রকৃত ভালবাসার প্রমাণ হয়, তাহলে হুসাইনের প্রতি তাদের ভালবাসা সত্য হলে তারা হামজাহ (রা:)এর মৃত্যুতে রোদন করে না কেন?
হুসাইনের উপর তাদের এই কান্না যদি আহলে বাইতের প্রতি অগাধ ভালবাসার কারণেই হত, তাহলে শহীদদের সরদার রাসূলের চাচা হামজা (রা:)এর মৃত্যুতে তারা ক্রন্দন করে না কেন? তাঁকে যে নির্মমভাবে ও পাশবিকতার হত্যা করা হয়েছে, হুসাইন হত্যার পাশবিকতার চেয়ে তা কোন অংশে কম নয়। সায়্যেদ হামজাকে হত্যা করে তাঁর পেট ফেরে কলিজা বের করা হয়েছে। তারা কেন এই হত্যাকাণ্ডের জন্য বাৎসরিক মাতম করে না? তাদের বুক ও চেহারায় আঘাত করে না কেন? কাপড় টেনে ছিঁড়ে না কেন? প্রতি বছর যখন উহুদ যুদ্ধের দিন ও তারিখ আসে তখন তলোয়ার খেলায় মেতে উঠে না কেন? সায়্যেদ হামজাহ কি আহলে বাইতের একজন সম্মানিত সদস্য নন? এখানেই শেষ নয়; রাসূলের মৃত্যুর চেয়ে অধিক বড় কোন মুসীবত আছে কি? তাঁর মৃত্যুতে তাদের ক্রন্দন ও মাতম কোথায়? সচেতন পাঠকদেরকেই এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বের করে নিতে হবে এবং কারও আকীদায় ত্রুটি থাকলে লেখাটি পড়েই তা সংশোধন করে নিতে হবে। অবস্থা দৃষ্টে মনে হচ্ছে, তাদের কাছে হুসাইনই সকলের চেয়ে শ্রেষ্ঠ। কি কারণে তাদের কাছে এত প্রিয়? উত্তর পূর্বে উল্লেখ করেছি। সেটিই আসল কারণ? না ইমাম হুসাইন কর্তৃক একজন পারস্য মহিলাকে বিয়ে করেছিলেন, তাই এত ভালবাসা? উভয়টিই এর কারণ হতে মানা কোথায়? হুসাইন ও তাঁর পিতা আলী বিন আবু তালিব সম্পর্কে তাদের অন্যান্য আকীদাহ-বিশ্বাসের দিকে না গিয়ে এখানেই ছেড়ে দিলাম।

১৭) হুসাইন রা. এর মাথা কোথায় গিয়েছিল?
দামেস্কে ইয়াজিদের দরবারে হুসাইনের মাথা প্রেরণের বর্ণনা সহীহ সূত্রে প্রমাণিত হয় নি। বিশুদ্ধ কথা হচ্ছে, তিনি কারবালার প্রান্তরে শহীদ হয়েছেন। তাঁর সম্মানিত মাথা কুফার গভর্নর উবাইদুল্লাহ বিন জিয়াদের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। আনাস বিন মালিক (রা:) বলেন: হুসাইনের মাথা উবাইদুল্লাহ এর কাছে নিয়ে যাওয়া হলে তিনি তাঁর মাথাকে একটি থালার মধ্যে রেখে একটি কাঠি হাতে নিয়ে তা নাকের ছিদ্র দিয়ে প্রবেশ করিয়ে নাড়াচাড়া করছিলেন এবং তাঁর সৌন্দর্য দেখে সম্ভবত বেখেয়ালে কিছুটা বর্ণনাও করে ফেলেছিলেন। হাদীছের শেষের দিকে আনাস (রা:) বলেন: হুসাইন (রা:) ছিলেন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে সবচেয়ে বেশী সাদৃশ্যপূর্ণ। (বুখারী)
অন্য বর্ণনায় আছে, আনাস (রা:) বলেন: আমি উবাইদুল্লাহকে বললাম, তোমার হাতের কাঠি হুসাইনের মাথা থেকে উঠিয়ে ফেল। কারণ আমি তোমার কাঠি রাখার স্থানে রাসূলের পবিত্র মুখ দিয়ে চুমু খেতে দেখেছি। এতে কাঠি সংকোচিত হয়ে গেল। (দেখুন: ফতহুল বারী ৭/৯৬)
সুতরাং দেখা যাচ্ছে, এরপর কোথায় হুসাইনের কবর হয়েছে এবং তাঁর মাথা কোথায় গিয়েছে, তা সঠিক সূত্রের মাধ্যমে জানা যায় নি। প্রকৃত ও সঠিক জ্ঞান আল্লাহর নিকটেই।

১৮) যেমন কর্ম তেমন ফল:
পরবর্তীতে আল-আশতার নাখয়ীর হাতে উবাইদুল্লাহ বিন যিয়াদ নির্মমভাবে নিহত হন। যখন নিহত হলেন তখন তার মাথা দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন করে মসজিদে রাখা হল। তখন দেখা গেল একটি সাপ এসে মাথার চারপাশে ঘুরছে। পরিশেষে উবাইদুল্লাহ বিন জিয়াদের নাকের ছিদ্র দিয়ে প্রবেশ করে মুখ দিয়ে বের হল। ফের মুখ দিয়ে প্রবেশ করে নাকের ছিদ্র দিয়ে তিনবার বের হতে দেখা গেল। (দেখুন: তিরমিযী, ইয়াকুব বিন সুফীয়ান)

১৯) ইয়াজিদ সম্পর্কে একজন মুসলিমের ধারণা কেমন হওয়া উচিত:

তাফসীর, হাদীছ, আকীদা, এবং ইতিহাস ও জীবনীর কিতাবগুলো অধ্যয়ন করে যতদূর জানতে পেরেছি, তাতে দেখা যায় সালফে সালেহীনের নিকট গ্রহণযোগ্য এবং অনুকরণীয় কোন ইমামের কিতাবে ইয়াজিদের উপর লানত করা বৈধ হওয়ার কথা আজ পর্যন্ত খুঁজে পাই নি। কেউ তার নামের শেষে রাহিমাহুল্লাহ বা লাআনা হুল্লাহ- এ দু’টি বাক্যের কোনটিই উল্লেখ করেন নি। সুতরাং তিনি যেহেতু তার আমল নিয়ে চলে গেছেন, তাই তার ব্যাপারে আমাদের জবান দরাজ করা ঠিক নয়। তাকে গালাগালি করাতে আমাদের ক্ষতি ছাড়া আর কিছু অর্জিত হবে না। তার আমল নিয়ে তিনি চলে গেছেন। আমাদের আমলের হিসাব আমাদেরকেই দিতে হবে। তার ভাল মন্দ আমলের হিসাব তিনিই দিবেন।
ইমাম যাহাবী ইয়াজিদের ব্যাপারে বলেন:

لانسبه ولانحبه
অর্থাৎ “আমরা তাকে গালি দিবো না এবং ভালও বাসবো না।” মদ পান করা, বানর নিয়ে খেলা করা, ফাহেশা কাজ করা এবং আরও যে সমস্ত পাপ কাজের অপবাদ ইয়াজিদের প্রতি দেয়া হয়, তা সহীহ সূত্রে প্রমাণিত নয়। তবে তাঁর চেয়ে হুসাইন যে বহু গুণে শ্রেষ্ঠ ছিলেন, তাতে কোন সন্দেহ নেই।
সুতরাং তিনি মুসলিম ছিলেন। তার জীবনের শেষ মুহূর্তে আমরা যেহেতু উপস্থিত ছিলাম না, তাই তার ব্যাপারটি আল্লাহর উপর ছেড়ে দেয়াই অধিক নিরাপদ। তা ছাড়া বুখারী শরীফের একটি হাদীছে তার ক্ষমা পাওয়ার প্রতি ইঙ্গিত পাওয়া যায়। সেখানে আছে যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: আমার উম্মতের একটি দল কুস্তুনতীনিয়ায় যুদ্ধ করবে। তাদেরকে ক্ষমা করা দেয়া হবে। জানা যাচ্ছে, ইয়াজিদ বিন মুআভীয়া ছিলেন সেই যুদ্ধের সেনাপতি। আর হুসাইন তাতে সাধারণ সৈনিক হিসেবে শরীক ছিলেন। সুতরাং ইয়াজিদও ক্ষমায় শামিল হতে পারে। আল্লাহই ভাল জানেন।

২০) উপসংহার:
হুসাইনরে মৃত্যু নিয়ে লোকেরা তিনভাগে বিভক্ত। একদলের মতে তিনি অন্যায়ভাবে মুসলমানদের ঐক্য বিনষ্ট করার জন্য ইয়াজিদের শাসনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছিলেন। তাই তাঁকে হত্যা করা সঠিক ছিল। তারা বুখারী শরীফের এই হাদীছ দিয়ে দলীল দেয়ার চেষ্টা করে থাকেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন:
من جاءكم وأمركم على رجل واحد يريد أن يفرق جماعتكم فاقتلوه
“একজন শাসকের সাথে তোমরা ঐক্যবদ্ধ থাকা অবস্থায় যদি তোমাদের জামআতে বিভক্তি সৃষ্টির জন্য কেউ আগমন করলে তাকে হত্যা করো।” (বুখারী)
তারা বলেন: মুসলিমরা ইয়াজিদের শাসনের উপর ঐক্যবদ্ধ ছিলেন। হুসাইন এসে সেই ঐক্যে ফাটল ধরানোর চেষ্টা করেছেন। সুতরাং তাঁকে হত্যা করা যুক্তিসংগত হয়েছে।
অন্যদল মনে করেন হুসাইনই ছিলেন খেলাফতের একমাত্র হকদার। তাঁর আনুগত্য করা ব্যতীত অন্য কারও অনুসরণ করা বৈধ ছিল না। জামআত, জুমআসহ ইসলামের কোন কাজই তাঁর পিছনে বা তাঁর নিয়োগ কৃত প্রতিনিধি ছাড়া অন্য কারও অনুসরণ করে সম্পাদন করলে তা বাতিল হবে। এমন কি তাঁর অনুমতি ব্যতীত শত্রুদের বিরুদ্ধে জিহাদ করাও বৈধ ছিল না। এমনি আরও অনেক কথা। এই দলের কথার সমর্থনে কোন সুস্পষ্ট দলীল খুঁজে পাওয়া যায় নি।
আর উপরোক্ত উভয় দলের মাঝখানে হচ্ছে আহলে সুন্নত ওয়াল জামআতের মাজহাব। তাঁরা উপরের দুটি মতের কোনটিকেই সমর্থন করেন না। বরং তাঁরা বলেন: হুসাইন মজলুম ও শহীদ অবস্থায় নিহত হয়েছেন। তিনি মুসলিম জাতির নির্বাচিত আমীর বা খলীফা ছিলেন না। সুতরাং দ্বিতীয় মতের পোষণকারীদের কথা ঠিক নয়।
আর যারা বুখারী শরীফের হাদিছকে দলীল হিসেবে পেশ করে হুসাইনকে হত্যা করা বৈধ হওয়ার কথা বলে থাকেন তাদের দলীল গ্রহণ সঠিক নয়। হাদীছ কোনভাবেই তাদের কথাকে সমর্থন করে না। কারণ তিনি যখন তাঁর চাচাতো ভাই মুসলিম বিন আকীলের চিঠি পেলেন তখন খেলাফতের দাবী ছেড়ে দিয়ে ইয়াজিদের সৈনিকদের কাছে তিনটি প্রস্তাব পেশ করেছেন।• সিরিয়ায় গিয়ে তাঁকে ইয়াজিদের সাথে সাক্ষাত করতে দেয়া হোক।
• অথবা তাকে মুসলিম রাজ্যের কোন সীমান্তের দিকে যেতে দেয়া হোক।
• অথবা তাঁকে মদিনায় ফেরত যেতে দেয়া হোক।
কিন্তু তারা কোন প্রস্তাবই মেনে নেয় নি। বরং তারা তাঁকে আত্ম সমর্পণ করে তাদের হাতে বন্দী হওয়ার প্রস্তাব করল। অস্ত্র ফেলে দিয়ে তাদের পাল্টা প্রস্তাব মেনে নেওয়া হোসাইনের উপর মোটেই ওয়াজিব ছিল না। সুতরাং তিনি বীরত্বের সাথে যুদ্ধ করাকেই বেছে নিলেন এবং ইয়াজিদের বিরাট বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে সাহসিকতা ও বীরত্ব প্রদর্শন করে শাহাদাত বরণ করলেন।
পরিশেষে বলতে চাই যে, হুসাইনের মৃত্যু ও কারবালার ঘটনা নিয়ে মাত্রাতিরিক্ত বাড়াবাড়ি করা কোন মুসলিমের কাজ হতে পারে না। এই হত্যা কাণ্ডের ঘটনা ইসলামের ইতিহাসে অন্যান্য মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড থেকে আলাদা কোন ঘটনা নয়। এ জাতিয় সকল ঘটনাকে সমানভাবে মূল্যায়ন করা উচিত। বিষাদসিন্ধু মুসলিমদের কোন মূলনীতির গ্রন্থ নয়। এটি একটি কাল্পনিক উপন্যাস মাত্র। তা দ্বারা প্রভাবিত হয়ে মুসলিম জাতি ঐতিহাসিকভাবে একটি প্রমাণিত সত্যকে বাদ দিয়ে কাল্পনিক কাহিনীকে কখনই সত্য হিসাবে গ্রহণ করতেপারে না।

Collect by http://www.islamicalo.com

 If you want know me,, pls click this Facebook & Twitter & YouTube


রবিবার, ১৯ অক্টোবর, ২০১৪

মুসলমানদের উদ্দেশ্যে আহমেদ দিদাতের বক্তব্য


আহমেদ দিদাতের বক্তব্যঃ

আমি পবিত্র কোর-আনের একটি খুব ছোট্ট আয়াত আপনাদের পড়ে শুনালাম, আয়াতটি সরা আল-বাক্বরার।

আমার ভাই ও বোনদেরকে আমি একটি পরামর্শ দেব যে, যখন কোন বক্তা পবিত্র কোর-আনের কোর ঊদ্ধৃতি দিয়ে কিছু বলেন আপনারা ঐ ঊদ্ধৃতি দিয়ে কিছু বলেন আপনারা ঐ ঊদ্ধৃতি একটু মনে রাখবেন এবং কোর-আনে কি আছে তা বাসায় গিয়ে চেক করা নেবেন। তার মানে এই নয় যে আপনি বক্তাকে সন্দেহ্য করছেন যে তিনি আপনাকে ধোকা দিয়েছেন। যদি আপনি এই ভাবে অভ্যাস করেন এবং প্রতিবারে বাসায় গিয়ে নিজের কোর-আনে তা পরীক্ষা করে দেখেন, সে ক্ষেত্রে প্রতিবারই নিজের চোখে আয়াতটি এবং মন লাগিয়ে তা পড়ার মাধ্যমে সেটি আপনার মনে গেথে যাবে এনং এটি আপনার জ্ঞ্যনার্জনের একটি অংশ হয়ে যাবে। এবং পরবর্তিতে আপনি প্রসঙ্গক্রমে অন্যদেরকেও এসব আয়ার উল্লেখ করে সাহায্য করতে পারবেন। এ প্রসংগে আমি অনুরোধ যাদের বাসায় কোর-আনের তরজমা আছে, তারা সবাই বাসায় গিয়ে চেক করবেন। যদি আপনার কাছে এটা থাকে; রঙ নিয়ে চিন্তা করার কিছু নাই, এ তরজমা খানা আব্দুল্লাহ ইউসুফ আলীর। যদি আপনার কাছে এটা থাকে তাতে দেখবেন এর শেষে আছে পরিপূর্ণ নির্দেশিকা ইনডেক্সে, আপনি কি জানতে চান, ইনডেক্সে সূচী থেকে দ্রুত সেই বিষয়ের খোজ পেয়ে যাবেন। ইনডেক্সে সকল বিষয় ডিকশেনারীর মত অক্ষর ক্রম অনুসারে দেওয়া আছে। প্রথমে A, পরে B, তারপরে C। ধরা যাক বাক্বারা, এবং আমি বলেছি সূরা নং ২, এবং সহজেউ ২ নং সূরা পাবেন, এ বউ এর সকল সূরা নং, পৃষ্ঠা নং সব পৃষ্ঠাতেই উল্লেখ আছে। এখন ধরুন আয়াত নং , আমি বলেছে ১১০, খুব সহযেই পাওয়া যাবে কারন প্রত্তেকটি আয়াতেই আয়াত নম্বর দেওয়া আছে। ১২০ নং আয়াতটিতে আল্লাহ বলেন আমাদেরকে অর্থাৎ মুসলমানদেরকে সতর্ক করতে আল্লাহ বলেন, ইহুদি আর খৃষ্টানরা কখনো তোমাদের উপর সন্টুস্ট হবে না, কখনো না, যতক্ষন না তোনরা তাদের ধর্ম গ্রহণ করছ। কি! কথা সত্য? না মিথ্যা? খৃষ্টানদের মনভাব সম্পর্কে এই কথা সত্য? না মিথ্যা?



আচ্ছা আমি এখন আপনাদেরকে অনুরোধ করব হাত উঠাতে; আপনাদের মধ্যে উপস্থিত যাদেরকে এই দেশে এখন পর্যন্ত কোন খৃষ্টান

কর্তৃক ধর্মান্তরের চেষ্টা করা হয় নাই তারা হাত উঠান। খৃষ্টানদের বিশ্বাসে বিশ্বাসী করাতে, কোন খৃষ্টান আপনার কাছে এখন পর্যন্ত আসেনি - এরকম কি কেউ আছেন? মুসলমানদের মধ্যে? থাকলে হাত উঠান। যাদের সাথে আজ পর্যন্তও কোন খৃষ্টান কথা বলেনি তাদের ধর্ম সম্পর্কে, খৃষ্টান ধর্ম সম্পর্কে - এই দেশে এই আমেরিকায়? দয়া করে তারা হাত উঠান। তার মানে? কঠিন অবস্থা! ভাই ও বোনেরা বোঝা গেল কোননা কোন খৃষ্টান কোননা কোন সময় আপনাদের কাছে এসেছে তার ধর্মে বিশ্বাস করাতে। আপনাদেরকে তাদের ধারনা মতে দোযখের আগুন থেকে বাচাতে। না না আসলেও তারা মনে করে - তারা বিশ্বাস করে যে, আমরা মুসলমানেরা সবাই ধ্বংশ হয়ে গেছি।



আসলে তারা জানে যে আমরা মুসলমানেরা খুব ভাল মানুষ। আমার দেশ সাউথ আফ্রীকায় আমরা মাথা উচু করে দাড়াতে, কথা বলতে সক্ষম। মুসলমানেরা গর্ব করে বলতে পারে সে দেশে অন্য ধর্মের এমন উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত কেউ দেখাতে পারবেনা যে, তারা আমাদের থেকে ভাল - ভ্রাত্যিত্বের দিক থেকে, ধার্মিকতার দিক থেকে, পরোপকারিতার দিক থেকে, নমনীয়তার ব্যাপরে - আমর দেশে এমন কোনো গোষ্ঠী নাই যে তারা বলতে পারে তারা মসলমানদের চেয়ে ভাল। আমরা মুসলমান, ঐ দেশে আমাদের মধ্যে মদ্যপায়ীর সংখ্যা সবচেয়ে কম, ঐ দেশে আমাদের মধ্যে জুয়াড়ুর সংখ্যা সবচেয়ে কম, ঐ দেশে আমাদের মধ্যে তালাকের ঘটনার সংখ্যা সবচেয়ে কম, ঐ দেশে আমাদের মধ্যে জেল খাটার ঘটনার সংখ্যা সবচেয়ে কম, ঐ দেশে আমাদের মধ্যে পরোপকারিতার ঘটনার সংখ্যা সবচেয়ে বেশী। কিন্তু আমরা কাউকে পাই না মুসলমান বানাতে। কিন্তু আমরা কাউকে পাই না ইসলামে আনতে। আমরা কাউকে পাই না। আমরা আমাদের ধর্মে আনতে কাউকে পাই না। আমরা মুসলমানরা সমাজ গোষ্ঠী হিসাবে একটি উজ্জল দৃষ্টান্ত। আমরা শতকরা হিসাবে নামাযী লোকের সংখ্যা বলেন, আমরা শতকরা হিসাবে দাড়ী রাখা লোকের সংখ্যা বলেন, অনেক বেশী। আমরা কৃপণতা করি না, আমরা মদ খাই না, আমরা জুয়া খেলি না, আমরা অশ্লীল নাচা নাচি করি না; আমরা শুকর খাই না। আমরা এমন একটি গোষ্ঠী, যা কেউ কল্পনাও করতে পারে না। কিন্তু আমরা কাউকে পাই না মসলমান বানাতে। আপনারা কি জানেন সমস্যাটা কোথায়? সমস্যা হল আমরা কেউ কথা বলতে চাই না। মুসলমানরা, আমাদের ভাইয়েরা খুব ভাল মানুষ, কিন্তু তারা বলে যে, আমাদের নিজেদেরই কোন ঠিক নাই। আমরা এখনও পরিপূর্ণ ভাল হতে পারি নাই। তারা বলে , আগে মুসলমানদেরকে মুসলমান কর। আমাদের ভাল মানুষ ভাইয়েরা-তারা বলে যে, আমাদের নিজেদেরই কোন কিছুর ঠিক নাই। আমরা এখনও পরিপূর্ণ ভাল হতে পারি নাই। কাজেই অন্যদের কাছে গিয়ে কোন মুখে কথা বলব? কিন্তু আমার প্রশ্ন - কোন খৃষ্টান কি আপনার চেয়ে ভাল? সামগ্রীক ভাবে খৃষ্টানরা কি মুসলমানদের চেয়ে ভাল? না। এ সত্তেও তারা তাদের ধর্মে ভাগিয়ে নিতে লোক পায়। কিন্তু আমরা কাউকে পাই না। কি কারনে? কারনটা কি? কেউ কি আমাকে এর কোন সঠিক কারন দেখাতে পারেন? কেন তারা তাদের ধর্মে ভাগিয়ে নিতে লোক পায়, আমরা পাই না? ঊনবিংশ শতাব্দির শুরুতে আফ্রীকায় ছিল তিন ৩% পারসেন্ট খৃষ্টান আর আজ সেখানে, আফ্রীকায় ৪০% খৃষ্টান। এই শতাব্দির শেষে তারা আফ্রীকাকে একটি খৃষ্টান উপ-মহাদেশ বানিয়ে ফেলতে চেষ্টা করছে। আর অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে তারা তাতে সফলকাম হবে। আমি জানতে চাই কেন। ব্যপারটা কি? তারা তাদের ধর্মে ভাগিয়ে নিতে লোক পায়। কিন্তু আমরা কাউকে পাই না। কি কারনে? আমাকে আপনারা এর উত্তর দেন।



খুব সহজ উত্তর। বইটা আপনাদের জন্য। এই বইটাতে সব কিছু বলা হয়েছে, আপনাদের জন্য। আমরা মুক খুলি না, আমরা কথা বলি না। আসল ব্যপার এখানেই। ও ভাই আপনারা কথা বলতে চান না। ও আমার বোনেরা, আপনারা কথা বলেন না। খৃষ্টানরা কথা বলছে, তারা বলেই চলেছে। তারা বিক্রি করছে। তারা বিক্রি করেই চলেছে।



আর আপনারা তো ভালই বোঝেন যে - আপনার যদি খারাপ কিছু বা বাজে জিনিস কিছু থাকে, আপনি তাও খদ্দেরকে খাওয়াতে সক্ষম; আপনি প্রচার চালাতে থাকেন অনবরত, আমার বিয়ার মদ খুব মিষ্টি। জান? আমার ডুমুর ফল গুলো খুব ভাল আর মিষ্টি। যদিও সবাই জানে কোথাও টক ছাড়া অন্য কিছু পাওয়া যায় না, তবুও যদি আপনি বলতেই থাকেন, কোন না কোন বেকূব হয়ত কিনে নেবে। আপনি বলে বলে সেটা কোন না কোন বেকূবের কাছে বিক্রি করতে সক্ষম হবেন।



তাই আল্লাহ আমাদেরকে বলেছেন, ইহুদি আর খৃষ্টানরা কখনোও তোমাদের উপর সন্তুষ্ট হবে না, যতক্ষন না তোমরা তাদের ধর্ম অনুসরন করছ।



কোন দেশই আজ নিরাপদ নয়। আমার কাছে এখানে এখানে একটা বই এর উপরের পাতা আছে। এখানে বলা হচ্ছে; সৌদি আরব থেকে সংকেত ধ্বনি। সৌদি আরব থেকে শুরু। এই যে এদিক! এদিকে! আপনারা ভাবছেন; আমাদের সৌদি আরবের ভাইয়েরা হয়ত মনে করছেন, তারা নিরাপদ আছেন। পবিত্র নগরীর দেশ সৌদি আরব। খাদেমুল হারামাইন আলহামদুলিল্লাহ। তিনি সংরক্ষিত রেখেছেন যে, এদেশে কোন খৃষ্টান গির্জা তৈরী হয় নাই। আমরা জানা মতে, সারা দুনিয়ার মধ্যে শুধু একটিই মুসলিম দেশ আছে যেখানে কোন খৃষ্টান গীর্জা নাই। আমার মনে হয় না আপনারা এসব খবর জানেন; সে দেশে কোন গীর্জা তৈরীর অনুমতি নাই। আর সেখানে কোন খৃষ্টান মিশনারীর লোক বাড়ী বাড়ী গিয়ে দরজা খটখটাতে পারে না। কিন্তু তাতে কি? খৃষ্টানরা ঠিকই তাদের রাস্তা করে নিতে পারে। ডাগ যোগে তারা কাজ করে যাচ্ছে। যদি আপনি ভিতরে ঢুকতে না দেন, বা কারো সাথে সাক্ষাত করতে না দেন, তাতে কি? আপনি পোষ্টম্যানকে তো আর আটকাচ্ছেন না। বাই পোষ্টে আসা সবকিছুইতো ঠিকানা মত পৌছাচ্ছে। আর এভাবে ওরা বিভিন্ন লোককে, ব্যবসায়ী লোকজনকে আরবী ইঞ্জীল বিনা পয়সায় দিতে চায়। ভিক্ষুককে যেভাবে লোকে দান করে। বর্তমানে তো আপনারা সব কোটিপতি, আপনাদেরকে দান করা হচ্ছে ইঞ্জীল কিতাব। যাকে বলা হচ্ছে গস্ফিল। কোন না কোন বেকূব হয়তো তাদের আহবানে সাড়া দিবে। ওরা সব মানুষদেরকে এই বলে বোকা বানায় যে - তুমি কি কখনো ইঞ্জীল দেখেছো? আপনি বলবেন না। আবার সে প্রশ্ন করবে - তোমাদের আলেম সমাজ কি তোমাদেরকে দেখিয়েছে বা এ সম্পর্কে কিছু বলে থাকে? না! কাজেই যদি তুমি এক কপি ইঞ্জীল ফ্রী ফ্রী পেতে চাও তাহলে আমাদের ঠিকানায় চিঠি লেখ তুমি পেয়ে যাবে। এইভাবেই খৃষ্টানরা আপনাদের অভ্যন্তরে ঢোকার চেষ্টা করে যাচ্ছে। এ ছাড়া তাদের আরো অনেক পন্থা আছে। তারা আপনাদের দারে দারে এসে আপনাদেরকে বাগে আনতে না পারলে সেখানে তাদের অন্য রাস্তা আছে। আর এই দেখেন - এটা হচ্ছে একটা খৃষ্টান ম্যাগাজিন - ইংল্যান্ড থেকে এটা প্রকাশ করা হয়। শুধু খৃষ্টানদের জন্যই। এটা আপনার আমার জন্য নয়, আপনার আমার চোখে পড়ার জন্য এ ম্যাগাজিন ছাপা হয় নাই। এই খৃষ্টান ম্যাগাজিনের এটা একটা ছবি - ছবিতে আছে একটা আরব মহিলা পর্দা অবস্থায়; যাকে বলে হিযাব - পর্দা বলি আমরা, পর্দা করার পরেও এই সাদাকালো শুধু যে অংশ দেখা যাচ্ছে সেটা হচ্ছে মহিলার চোখ দুটো - আর কিছুই না, আর শুধু এতটুকুতেই মহিলা যে কত সুন্দরী - সত্যি সত্যি সে খুব সুন্দরী। যদি আপনারা ছবিটার দিকে একবার তাকান - শুধু তাকিয়েই থাকবেন। কি ভাবছেন - আরে আমি যদি পাত্রী সন্ধানি হোতাম - আর যদি এ মহিলাকে পাত্রী হিসেবে পেতাম, বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে দিতাম।



শুধু সাদা কালো ছবিতেই সে কত সুন্দর - সত্যি বলছি - এই যে দেখেন তার চোখের গ্ল্যামার, তার চোখের পাতা, ভ্রু - অপুর্ব! অপুর্ব!



আচ্ছা তারপর লক্ষ্য করেন, এখানে বলা হচ্ছে - খৃষ্টানদেরকে জানান হচ্ছে - এই যে সুন্দরী মহিলা এ হয়ত এখনও কোন খৃষ্টানের সাথে মিলিত হয় নাই। খৃষ্টানদের জন্য এটা একটা আফসোসের ব্যপার হয়ে গেল নাকি?



পত্রিকায় এখানে বলা হচ্ছে; পাঠকদেরকে মানে খৃষ্টানদেরকে জানান হচ্ছে - এই যে আরব মেয়েটা তাকে এখনও পর্যন্ত কোন খৃষ্টান ছুঁতে পারে নাই। কিন্তু তোমরা খৃষ্টানরা তার কাছে চিঠি পাঠাতে পারবে, প্রভুর ভালবাসায়। তোমরা তাকে চিঠি পাঠাতে পার - কাকে? - আপনাদের বোনকে, আপনাদের মেয়েদেরকে, আপনাদের স্ত্রীদেরকে। তোমরা তার কাছে চিঠি পাঠাতে পারবে, প্রভুর ভালবাসায়। এখন আমি আরব ভাইদের কাছে প্রশ্ন রাখতে চাই! আপনারা কি আপনাদের বোনদের, স্ত্রীদের, কন্যাদের নাম ঠিকানা সব ওদেরকে পাঠিয়ে দিয়েছেন? নিশ্চয় না - তাহলে? তাহলে কিভাবে ওরা আপনাদের বোনকে, আপনাদের মেয়েদেরকে, আপনাদের স্ত্রীদেরকে চিঠি পাঠাবে? কাউকে চিঠি দেবে কুয়েতে, কাউকে বাহারাইনে, কাউকে আবুধাবিতে, কাউকে জর্ডানে, সৌদি আরবে, মিশরে - কিভাবে? আপনারা তো কোন ঠিকানা ওদেরকে দেননি? নাকি আপনারা ঠিকানা দিয়ে রেখেছেন? নিশ্চয় না!



আসল কথা হল - ওরা জানে কিভাবে ব্যবস্থা করতে হয়। খৃষ্টানদের উপায় জানা আছে। তারা সক্রীয় আছে - তাদের কর্ম পদ্ধতি নিয়ে; অশুভ কর্মকান্ড নিয়ে ভুল রাস্তায়। ধ্বংশাত্বক প্রক্রিয়ায়। আমরা আছি সিরাতুল মুস্তাকিমের উপর। আছি তবে মৃত লাশের মত অবস্থায়। সঠিক পথে আছি তবে মৃত কিন্তু খৃষ্টানরা সজীব ও সক্রিয় রয়েছে বাতিল এর উপরে। ওরা ছলে বলে কৌশলে আমাদের মধ্যে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করছে। আমাদের পাকড়াও এর চেষ্টায় আছে।



তারা এখানে লিখেছে অর্থাৎ খৃষ্টানদেরকে বলা হচ্ছে - ‘মাজাল্লা’ একটা যুব পত্রিকা, পত্রিকার নাম ‘মাজাল্লা’। এটা হচ্ছে ‘আল-মাজাল্লার’ কাভার পেজ মানে উপরের পৃষ্ঠা। ‘মাজাল্লা’ হচ্ছে একটি ম্যাগাজিন, যুব ম্যাগাজিন, - মিডিল ইষ্টের ১৪ টা আরব দেশে এটা প্রকাশ হয় ও বিতরন করা হয়। ম্যাগাজিনটি আরবি ভাষায় লেখা আর এর প্রায় সকল প্রকার সম্পাদনার কাজে নিয়োজিত রয়েছে আরবি ভাষী খৃষ্টান সম্প্রদায়। আমাদের এসব খবর জানার কথা না। আপনারা এসন খবর রাখেন বলে মনে হয় না। আপনারা শুধু দেখেন - ‘মাজাল্লা’ আর কিনে নিয়ে যান। একটা আরবি ম্যাগাজিন, আরব দেশে ছাপা হচ্ছে - ব্যাস। আর একটা জিনিস এখানে আপনারা লক্ষ করেন - এটা - এই ‘মাজাল্লা’ যেটা এইমাত্র দেখালাম, সেখানে আছে - এই যে এখানে দেখান হয়েছে - কোন এক সৌদী ভদ্রলোক গেছেন উত্তর মেরুতে এবং যেখানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে সৌদী আরবের জাতীয় পতাকা - যাতে লেখা আছে ‘লা ইলাহা ইল্লা আল্লাহ মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ’। এইসব ছবি ওয়ালা পত্রিকা কোন এক বইয়ের দোকানে দেখলে তা আপনি ভাল বেশে কিনে নিয়ে যাবেন। আপনি ভাববেন আমার বোন এটা পড়ুক, আমার মেয়ে এটা পড়ুক, আমার স্ত্রী এটা পড়ুক। স্বাভাবিক কথা, খুবই স্বাভাবিক। আপনাদের সকলেরই জানার ইচ্ছা ব্যপার টা - যে আমাদেরই এক ভাই ইসলামের পতাকা নিয়ে উত্তর মেরুতে পৌঁছে গেছে - মাশাল্লাহ মাশাল্লাহ। কত বড় খবর। কাজেই এ সব পত্রিকা আপনারা কিনে বাসায় নিয়ে যাবেন - স্বাভাবিক।



যা বলছিলাম - এখানে উল্লেখ করা হয়েছে - এই পত্রিকায় প্রায় সকল প্রকার সম্পাদনার কাজ পরিচালিত হয় আরবি ভাষী খৃষ্টানদের মাধ্যমে। এই ম্যাগাজিনের একটা অংশ আছে - পত্র মিতালী সরবরাহ, পেন ফ্রেন্ড এক্সচেঞ্জ। সেখানে আছে একটি ছোট বিজ্ঞপন; সেখানে বলা হয়েছে - তোমরা যারা ইংরেজী শিখতে চাও বা ভাল মত আয়ত্ব করতে চাও, তারা আমাদেরকে চিঠি লিখতে পার ‘আল-মাজাল্লা’-এর বরাবরে। আর এর মাধ্যমে তার সাথে যোগাযোগ করিয়ে দেওয়া হবে এমন একজনের সাথে - যে প্রায় সময় চিঠি লিখবে, আপনাদের সাথে, মানে আপনার বোনের সাথে, আপনার মেয়ের সাথে, আপনার স্ত্রীর সাথে। আর আপনার মা বোনেরা চিঠি লিখবে ‘আল-মাজাল্লা’ এর বরাবরে - এই ভেবে যে হয়ত কোন মুসলমান মেয়ের সাথে আল-মাজাল্লার মাধ্যমে তার যোগাযোগ হবে। শেষ মেষ যা ঘোটবে তা হল তারা এ সব ঠিকানা পাঠাবে বিভিন্ন খৃষ্টান মিশনারিতে, যারা যোগাযোগ রাখবে আপনার বোনের সাথে, আপনার মেয়ের সাথে, আপনার স্ত্রীর সাথে।



ওরা জানে কিভাবে আপনার অন্তর মহলে ঢুকতে হবে। আমরা মুসলমানরা জানিই না যে কি খেল তারা আমাদের সাথে খেলছে। আপনারা সরল মনে সরল বিশ্বাসে ওদের কাছে পত্র পাঠাচ্ছেন - আর যোগাযোগ করিয়ে দেওয়া হচ্ছে আপনাদের মেয়েদের সাথে লন্ডনের কোন খৃষ্টান মিশ্নারির সাথে। এবং তারা আপব্ররতিতে আপনাদের পেন ফ্রেন্ড হিসাবে মহিলাদেরকে দাওয়াত করবে লন্ডনে। বলবে - দেখ তুমি যদি লন্ডনে আদতে চাও - তুমি আমার গেষ্ট হয়ে থাকবে, আমি তোমাকে লন্ডনের বিভিন্ন প্রশিদ্ধ স্থান, যেমন বিশাল সব হল, বাকিংহাম প্যালেস, বড় বড় মিউজিয়াম ইত্যাদি বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান দেখাব, আর আপনাদের কীন মেয়ে যখন লন্ডনে পৌছে যাবে, তখন দেখবে তার জন্য তার এক পুরুষ বন্ধু অপেক্ষা করছে।



তারা ভালই জানে আপনাদেরকে কিভাবে পাকড়াও করতে হবে। এখানে আছে আর একটি পত্রিকা, ‘নিউজ উইক’। এখানে বলা হয়েছে সারা বিশ্বে যত গুলি মিশনারি আছে, তারমধ্যে ৬০% ভাগেরও বেশী মিশনারিই হচ্ছে আমেরিকায়। বিশ্বের ৭০,০০০ সত্তর হাজার মিশনারির ৬০% ভাগেরও বেশী মিশনারিই হচ্ছে আমেরিকান। ৬০% ভাগেরও বেশী, আর আছে আছে সত্তর হাজার ৭০,০০০। বাকী সারা বিশ্বে রয়েছে - আছে ইন্ডিয়াতে আছে পাকিস্তানে, আছে বাংলাদেশে, আছে আফ্রিকায়। আফ্রিকায় অবস্থান করছে ৩৫ হাজার; ইন্দোনেশিয়ায় আছে।



ওরা গর্ব করে বলে - যে, ওরা স্বাধীনতার পর বাংলাদেশে এত লোককে ধর্মান্তর করে খৃষ্টান বানিয়েছে যে পূর্ববর্তি ব্রিটিশ শাসনামলের ১০০ বছরেও হয়নি। ওরা গর্ব করে বলে - যে, তারা ১৫ মিলিয়ন বা ১ কোটি ৫০ লাখ লোককে ধর্মান্তর করে খৃষ্টান বানিয়েছে ইন্দোনেশিয়ায় এবং এ শতাব্দির শেষে তারা ইন্দোনেশিয়াকে একটি খৃষ্টান জাতিতে পরিনত করার পরিকল্পনায় আছে; আর অবস্থা দৃষ্টে মনে হচ্ছে তারা সফলকাম হবে। ওরা গর্ব করে বলে যে, বর্তমান পাকিস্তানের এমন অনেক শহর আছে যেখানে ১ লাখেরও উপরে খৃষ্টান সম্প্রদায় রয়েছে - করাচিতে ১ লাখেরও বেশী খৃষ্টান, মুলতানে ১ লাখেরও বেশী খৃষ্টান, লাহরে ১ লাখেরও বেশী খৃষ্টান এবং শত্রু দের সাথে যেখানে বর্ডার অর্থাৎ শিয়ালকোটে ২ লাখেরও বেশী খৃষ্টান রয়েছে। এবং পানজাবের এমন অনেক শহর আর গ্রাম রয়েছে যেখানে মুসলমানদের চেয়ে খৃষ্টানদের সংখ্যাই বেশী। কিন্তু মুসলমানরা সবাই সন্তুষ্ট, তৃপ্ত আর বলে আমরা ৮০ পারসেন্ট, আমরা ৯০ পারসেন্ট।



আরে ভাই আসলে এটাই হচ্ছে মুসলমানদের মনভাব, তারা মনে করে, সব কিছু ঠিক আছে; আমরাই মেজরিটি। আরে মিঞা, তোমাদের জন্য কবর খোড়া হচ্ছে; তোমার দেশে তোমাদের জন্য যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। তোমরা জান না তোমাদের জন্য কি কি পরিকল্পনা চলছে, তোমারই দেশে। পাকিস্তানে এক অর্থে আমারও দেশ; আমি পাকিস্তানে থেকে এসেছি - ৩ বছর, ভায়ের সাথে করাচিতে ছিলাম।



এখন আমি আপনাদেরকে আরও কিছু দেখাব, একটা ছোট্ট দল বা গোষ্ঠী, ‘জাহয়াজ উইটনেস’ নামে সক্রিয় আছে। তারা একটা বই ছাপিয়েছে; একটা বই যার আছে ১৯২ টা পাতা এবং ঐ বই এর ৮৪ মিলিয়ন কপি তারা ছাপিয়েছে ৯৫টা ভাষায়। এ সব ভাষার মধ্যে আরবি, ঊর্দূ আর গুজরাটিও আছে যা আমার ভাষা। ৮৪ মিলিয়ন মানে ৮ কোটি ৪০ লক্ষ কপি শুধুমাত্র একটি বই। সমগ্র মুসলিম বিশ্ব একত্রে একশ বছরেও যা পারবে না। ১০০ বছরেও আমরা তা পারব না।



ঐ একই গোষ্ঠী তারা নিজেদেরকে ‘জাহয়াজ উইটনেস’ নামে পরিচয় দেয়, তারা একটা পত্রিকা ছাপে নাম ‘দা ওয়াচ টাওয়ার’। আমার ধারনা আপনারা কেউই এসব বিষয়ে কোন খবরা খবর রাখেন না। এ সব লোকদের ব্যপারে আপনাদের কোন ধ্যান ধারনা আছে বলে মনে হয় না। ‘ওয়াচ টাওয়ার’ ম্যাগাজিন সম্পর্কে এখানে বলা হয়েছে, গড়ে প্রত্যেকটা ইস্যু তারা ছাপে ৩ কোটি ৪৫ হাজার কপি - মোট ১০৪ টা ভাষায়। আপনারা কল্পনাও করতে পারবেন না। কল্পনার বাইরে, সব কিছু রূপ কথার গল্প মনে হবে। ঐ একই গ্রুপ তারা গর্ব করে বলে যে, তারা কাজ শুরু করে প্রথম আমেরিকায় ১০০ বছর আগে। আমেরিকার বাইরে ২য় বড় গ্রুপ, ‘জাহ্যাজ উইটনেস’ গ্রুপ কাজ করে বা কর্ম কান্ড পরিচালনা করে একটি মুসলিম শেচে আর সে দেশটি হল নাইজেরিয়া। আপনারা ধারনা করতে পারেন? আমেরিকার পরে ২য় বড় গ্রুপ কাজ করছে একটি মুসলিম দেশের অভ্যন্তরে, নাইজেরিয়ায়?



আর এদিকে আমরা মুসলমানরা নিশ্চিন্ত আছি, মনে করছি সব কিছু ঠিক ঠাক আছে। কোন অসুবিধা নাই। অন্য দিকে তারা চেষ্টা চালিয়েই যাচ্ছে - কি কি কায়দায় আমাদের মধ্যে ঢোকা যায়, তা সে যে কোন মুল্যেই হোক।



তারা চাইছে আমাদেরকে বাগে আনতে, তারা আমাদের জন্য তৈরি করছে সুন্দর সুন্দর পবিত্র শো - পিস, এদিকে একটু চেয়ে দেখেন, কি সুন্দর পবিত্র জিনিষ। সুন্দর পবিত্র। ক্যালিগ্রাফি, কায়দা করে লেখা, সাধারনত কোরানের ভিতর এ রূপ কায়দা কোরে আরবি লেখা থাকে। যাকে ক্যালিগ্রাফি বলে।



আপনারা যারা দূরে আছেন, দেখতে পারছেন কি না জানি না - আপনাদের কাছেও নেয়া হয়েছে, ঠিক আছে।



দেখেন, কি সুন্দর, পবিত্র! আমি যদি আপনাদের কাছে ১ টা ১ ডলারে বিক্রি করতে চাই, আমার মনে হয় কেউই আপত্তি করবেন না। কোরানের কায়দায় লেখা, মনে হচ্ছে কোরানের এক একটি আয়াত; বিক্রি করলে কেউই আপত্তি করবে না। ১ টা ১ ডলার, মনে হচ্ছে আপনারা ১০ টা ১০ টা করে নিয়ে যাবেন। নিয়ে বন্ধুদের মাঝে, প্রতিবেশীদের মাঝে বিলি করবেন, তাই না? সবাই বাসার ওয়ালে টাঙ্গিয়ে রাখবেন। আমি ইচ্ছা করলে হাজারে হাজার বিক্রি করতে পারব।



কিন্তু আপনারা জানেন না যে এগুলো কি? এগুলো সবই খৃষ্টান বাইবেল। এ সব গুলিই বাইবেলের এক একটি কথা বা বাক্য। বাইবেলের এক একটি আয়াত। আপনাদের ধারনার বাইরে, আপনারা ধারনা করতে পারবেন না এগুলি কি। কোরানের লেখার স্টাইলে আমরা কোরানই মনে করি। কিন্তু আমরা ধোকা খাচ্ছি। আমরা কি করব এগুলো নিয়ে? এগুলি নিয়ে চুমুদিয়ে দেয়ালে টাঙ্গিয়ে রাখব। এমন ভুল হতেই পারে। যে কেউই এমন ভুল করতে পারে।



ওরা জানে কি কায়দায় মাছ ধরতে হয়। ওরা জানে মুসলমান মাছ গুলো এই টোপ গিলবে। ওরা জানে আমরা আল্লাহর কালাম কে ভক্তি করি। আমরা বুঝি আর না বুঝি আমরা কি করি? চুমু দিয়ে ওয়ালে টাঙ্গিয়ে রাখি। ১ ডলার করে ইচ্ছা করলে হাজারে হাজারে বিক্রি করতে পারব। ১ ডলার কি আপনাদের কাছে কি বেশি? ১ ডলার কিছুই না। যে কেউই কিনবে।



এরপর দেখেন একটা বই। আপনাদের এটা দেয়া হয়ে থাকে আপনাদের মসজিদের বাহিরে। বই এর উপর লেখা কি? ‘আল-কিতাব’ আরবিতে লেখা ‘আল-কিতাব’। আবারো লক্ষ করেন - সেই একই রকম ক্যালিগ্রাফি, যেভাবে আমরা আরবি লেখাকে সুন্দর করে সাজাই। আপনারা ভাবছেন এটা সেই কিতাব; কি সেটা?- ‘যালিকাল কিতাব লা রাইবা ফি’ - এই সেই কিতাব যার মধ্যে কোন সন্দেহ নেই; অর্থাৎ কোরান। আপনাদের কাছে তাই মনে হতে পারে। তারপর আপনি এটা বাসায় নিয়ে যাবেন। আমরা অনেকেই অনেক কিছু বুঝি না - যেমন অনেক পাকিস্তানী, হিন্দুস্তানি, বাংলাদেশী, নাইজেরিয়াবাসী, ঘানার অধিবাসি, সবাই ধর্ম ভিরু, বুঝতেই পারবেনা যে প্রতাড়িত হচ্ছি। আমরা শুধু খেয়াল রাখব, কোরানের মত হরফে লেখা তাই চুমুখাব - ভাবব এটা নিশ্চয় ইসলামের বা কোরানের কোন বিষয়, কাজেই ঘরে নিয়ে যাব। আসলে এটা কি? এটাও হল খৃষ্টানদের বই। মাছ ধরার মত আবারও আপনাকে ধরল। ওদের কাছে আপনি যেন মাছ। টোপ গিললেই ধরা।



এরা দক্ষিন আফ্রিকায় আমাদের কাছে এই বইটা পাঠিয়েছে, বিনা পয়সায়। বাই পোষ্টে পাঠানো হয়েছে, শুধুমাত্র মুসলমানদের কাছে। সকলেই বাই পোষ্টে বইটা পেয়েছেন। আর আমেরিকা থেকে দক্ষিন আফ্রিকায় পাঠাতে প্রতিটা বইয়ের জন্য পোষ্ট করার খরচ ৩ ডলারেরও বেশী, সারফেস মেইলে, বিমানে নয়।



এখানে লেখা হয়েছে, ‘অনন্য পরম ভালবাসা’ যে এই বইটা পাবে, সে যুবক হোক আর বৃদ্ধ হোক, বইটা পড়তে চাইবে। বইটার নাম দেখে মনে হচ্ছে, এটা যৌবনের প্রেম ভালবাসা সম্পর্কিত। আপনি বুড়া হয়েছেন এখনও উৎসাহ কমেনি, এসব বিষয় সম্পর্কে - ‘অনন্য পরম ভালবাসা’ মনে মনে বলবেন ধন্যবাদ! ধন্যবাদ! আপনি বইটা খুললেন - কি আছে এতে? এটাও “পবিত্র বাইবেল”। আপনি আবারও তাদের কাছে ধরা খাইলেন। পুরা ধরা।



এখানে আরও একটা বই আছে। তারা এই বই এর আড়াই লাখ কপ্র বিতরন করেছে মিডিল ইষ্টে, আরব অঞ্চলে, কুয়েত নিয়ে ইরাক যুদ্ধের সময়। বইটার নাম দেওয়া হয়েছিল ‘ডেজার্ট ষ্টর্ম’। এই ছবিতে আছে আমেরিকার সৈন্যদের অনুরূপ পোশাকে সেনাবাহিনীর ভাঁওতাবাজী ছবি। আমেরিকান সৈন্যদের অনুরূপ পোশাক, উপরের পাতায় - পদাতিক বাহিনী, নৌ বাহিনী, বিমান বাহিনীর ছিল ছাপ্পড় মারা আছে; পিছনের পাতায় পদাতিক বাহিনী, নৌ বাহিনী, বিমান বাহিনীর ছিল ছাপ্পড় মারা আছে; আর এই বইটা দেওয়া হয়েছে মুসলমান্দেরকে, বিনা পয়সায় উপহার হিসেবে। মুসলমানরা বইটা হাতে নিয়ে বলবে ধন্যবাদ! আল্লাহর শোকর করবে আর বলবে - আপনাকে অনেক ধন্যবাদ! বইটা দেওয়ার জন্য। বই সে নিয়ে যাবে এই ভেবে যে, বই এর ভিতর “গালফ ওয়ার”, কুয়েত নিয়ে যে ইরাক যুদ্ধ হয়েছিল, সে বিষয়ে সব ঘটনা রয়েছে। যে যুদ্ধের নাম “ডেজার্ট স্টর্ম”। “ডেজার্ট স্টর্ম” কি? কুয়েত নিয়ে ইরাক যুদ্ধের নাম “ডেজার্ট স্টর্ম”। বুশ এই যুদ্ধের নামকরন করেছিল “ডেজার্ট স্টর্ম”। যখন বইটা আপনাকে দেওয়া হবে, আপনি ভাববেন বইটা পড়লে আপনি জানতে পারবেন, সাদ্দামের কুয়েত দখলের বিষয়। আর আমেরিকানরা কি ভাবে সাদ্দামের “স্কাড” ক্ষেপনাস্ত্রকে মোকাবেলা করল, তাদের পেট্রিয়ট মিযাইল দিয়ে। কি ভাবে তারা সাদ্দামকে পরাস্ত করল। কি ভাবে তারা ৫ লাখের মত সৈন যুদ্ধক্ষেত্রে মরুভূমীর মধ্যে সমাবেশ করেছিল অথচ একটা সৈন্যও গুলিবিদ্ধ হয়ে মরেনি। একটা আমেরিকান সৈন্যকেও প্রান দিতে হয়নি। কেউ কেউ মরুভূমীর মধ্যে অ্যাক্সিডেন্টে মারা গেলেও একজনকেও সাদ্দাম বাহিনী মরুভূমীতে যুদ্ধে মারতে সক্ষম হয়নি। ৬ মাস লেগেছিল মোট ৫ লাখ সৈন্য সমাবেশ করতে, মরুভূমীর মধ্যে। অথচ একজন সৈন্যকেও হারাতে হয়নি এত অত “স্কাড” মিযাইলে; মিত্র বাহিনীর একটা সৈন্যকেও গুলিবিদ্ধ হয়ে প্রান দিতে হয়নি। আপনারা হয়ত এসব বিষয়ে জানতে চান, পড়তে চান। কি কায়দায় মোকাবেলা করা হয়েছিল। আর সেখানে সকল মিত্র শক্তিকে সমন্নয় করা হয়েছিল কি ভাবে, আর সকল জাতির লোকজনকে কি ভাবে তারা মিত্র বাহিনীর পক্ষে সমন্নয় করে রেখেছিল, যেমন ছিল পাকিস্তানের লোক, বাংলাদেশ থেকে বাংলাদেশর সৈন্য, ছিল সিরিয়া থেকে, মিশর থেকে আর আমেরিকানরা, আর ব্রিটিশরা; তারা কি ভাবে সকলকে এক করে রাখতে সক্ষম হল? আপনারা এ সবকিছু বই পড়ে জানতে আগ্রহী। তাই যখন কেউ এসব বই পড়তে এটা উপহার দেয় তখন আপনি কি করবেন? আপনি তখন বলবেন, আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। তারপর আপনি বইটা বাসায় নিয়ে য়াবেন। তারপর বাসায় গিয়ে বইটা খুলবেন। তখন কি দেখতে পাবেন? বই এর ভিতর কি আছে? পবিত্র বাইবেল। খ্রীষ্টানদের বাইবেল। আপনি আবারও ধরা খেলেন।



সারা বিশ্বে খ্রীষ্টানরা চাচ্ছে আমাদের লোকদের ধর্মান্তর করতে। তারা জোরে সোরে চেষ্টা চালাচ্ছে। আমরা কিন্তু আমাদের লোকদের হারাচ্ছি। নিজেদেরকে এত বেশী চালু ভাববেন না। আমরা আসলে ব্যর্থ হচ্ছি। কিন্তু আমরা তো এভাবে নিজেদেরকে হারিয়ে য়েতে দিতে পারিনা। আর এও তো বলতে পারছি না যে আমরা আমাদেরকে হারাচ্ছি না? দক্ষিন আফ্রিকায় যা হচ্ছে, আমি স্বীকার করতে বাধ্য হচ্ছি, আমরা যখন একটা পুরুষ ছেলেকে হারায়, সাথে সাথে হারায় তিনটা মেয়েকে। ১ টা ছেলের সাথে ৩ টা মেয়ে। এখানকার অবস্থা অর্থাৎ আমেরিকার অবস্থা আমার জানা নাই।



সরল মানুষের সাভাবিক সভাবই হল মেনে নেওয়া। যখন ওদের কোন ব্যাক্তি আপনার কাছে আসে, সে কি করে? নরম সুরে মিষ্টি কথায় আপনাকে প্রলুব্ধ করতে চেষ্টা করে অর্থাৎ আপনার মগজে নানান বুদ্ধি ঢোকাতে থাকে, মগজ ধোলাই করতে সক্ষম হয়।



আর তাদের বিশেষ বিশেষ পদ্ধতি আছে। আমাদের মানুষ জনকে কি ভাবে কি করা যায় তার বিশেষ পন্থা তাদের কাছে আছে। মনে করেন তারা আসবে আপনার বাসায়, এর পর আপনাকে কিছু প্রশ্ন জিঙ্গাসা করবে, বলবে- আপনি কি যীষু খ্রীষ্টকে বিশ্বাস করেন? তখন আপনি কি বলবেন? বলবেন অবশ্যই! অবশ্যই! কোন মুসলমানকে মুসলমানই বলা যাবে না যদি না সে ঈসা (আঃ) কে বিশ্বাস করে। এর পর সে আপনাকে বলবে, দেখেন, আমাদের যীষুখ্রীষ্ট আল্লাহর একজন বড় মাপের পয়গম্বর, তা কি আপনি স্বীকার করেন? আপনি বলবেন অবশ্যই আমি তা স্বীকার করি, যে তিনি আল্লাহর একজন ঊচু দরজার পয়গম্বর ছিলেন। অনেকের মধ্যে মা’শাল্লহ তিনিও একজন পয়গম্বর। তখন সে বলবে- আপনি জানেন, আমাদের যীষু খ্রীষ্ট জন্ম গ্রহন করেছিলেন অলৌকিক ভাবে, কোন পুরুষের প্রয়োজন ছাড়াই, অর্থাৎ কোন মানব পিতা ছাড়াই তিনি জন্মেছিলেন, আপনি কি তা স্বীকার করেন? — হ্যা! আমরা তা বিশ্বাস করি। প্রত্যেক প্রশ্নের উত্তরে আপনি যে কি বলবেন তা কিন্তু তার জানাই আছে। সব কিছুতেই আপনার উত্তর হবে হ্যা! হ্যা! হ্যা! তারা একটা পন্থা বা কৌশল ঠিক করেই এসেছে। পরে জিঙ্গাসা করবে, আপনাদের মুহাম্মদ (সঃ) কি একই ভাবে জন্মেছিলেন? পিতা ছাড়া? আমাদের যীষু পিতা ছাড়া জন্মেছিলেন। আপনাদের মুহাম্মদ (সঃ) কি একই ভাবে জন্মেছিলেন? না। তিনার পিতা মাতা ছিল। তাই না? আপনি বলবেন হ্যা! ছিল। সে বলবে, ঠিক আপনার আমার মতই। আপনি বলবেন হ্যা! এবার আসল পয়েন্টে আসা যাক, তা হল, যীষুখ্রীষ্ট মর্যাদায় মুহাম্মদ (সঃ) এরও উপরে। সে কিন্তু মুখে বলবে না যে যীষুখ্রীষ্ট মর্যাদায় উপরে, সে এটা কায়দা করে প্রমান করে দেখাবে।



সে আবার বলবে, আপনি হয়ত জানেন, আমাদের যীষু হচ্ছেন মছিহ, ঈছা মছিহ, ইংরাজিতে বলে, ক্রাইষ্ট। আপনি কি তা বিশ্বাস করেন? আপনি বলবেন অবশ্যই বিশ্বাস করি। সে আবার প্রশ্ন করবে, আপনাদের মুহাম্মদ (সঃ) কি মছিহুল্লাহ? আপনি বলবেন না। তিনি হচ্ছেন রছুলুল্লাহ। তিনি আল্লাহর রছুল বা বার্তা বাহক। সে তখন বলবে দেখেন, আমাদের যীষু হচ্ছেন মছিহ ও রছুল, যা আপনাদের কোরানেই আছে। তিনি মছিহ মরিয়মের পুত্র ঈসা (আঃ) এবং ইসরাইল সম্প্রদায়ের নিকট পাঠান রছুল বা বার্তা বাহক যা কোরানে উল্লেখ আছে। আমাদের যীষু হচ্ছেন মছিহ ও রছুল, আর আপনাদের পয়গম্বর শুধুমাত্র রছুল। কি তাই না? আপনাকে বলতে হবে হ্যা তাই। তাহলে ব্যাপারটা কি দাঁড়ায়? যে আমার যীষু আপনাদের মুহাম্মদ (সঃ) এর চেয়ে মর্যাদার এক দরজা উপরে। সে অবশ্য মুখে এটা বলবে না, তবে আপনার কাছে এটা প্রমান করার চেষ্টা করবে।



পরে সে বলবে দেখ, আমাদের যীষু মৃতকে জীবিত করতে পারতেন, আপনি কি তা বিশ্বাস করেন? আপনাকে বলতে হবে হ্যা! তবে তা আল্লাহর ইচ্ছায়। না তা ঠিক আছে, আল্লাহর ইচ্ছায়, আপনাদের মুহাম্মদ (সঃ) কি মৃতকে জীবিত করতেন আল্লাহর ইচ্ছায়? করতেন কি? আপনাকে বলতে হবে না। তিনি এমন কিছু করতেন না বলেই জানি। কাজেই সে আবারও প্রমানের চেষ্টা করল, তাদের পয়গম্বর ঈসা (আঃ)আমাদের মুহাম্মদ (সঃ) এর চেয়ে দর্জায় উপরে।



এরপর সে জিঙ্গাসা করবে, আপনাদের মুহাম্মদ (সঃ) এখন কোথায় আছে? আপনি বলবেন উনাকে মদিনায় দাফন করা হয়েছে। সে বলবে সম্ভবত: তাঁর হাড় গোড় কবরের মধ্যে এত দিনে পচে গলে গেছে? আপনি বলবেন, না না আমরা বিশ্বাস করি তিনি হায়াতুন্নবী বা জীবন্ত নবী। আরে ভাই সেটা তো স্থুল অর্থে নয়। বাস্তবে সম্ভবত: তাঁর হাড় হাড্ডি সব পচে গেছে কবরের মধ্যে ? হয়তবা? বলুনতো আমাদের যীষু এখন কোথায়? তিনি আছেন বেহেশতে, তিনি জীবিত আছেন? তিনি আবার পৃথিবীতে আসবেন? আপনাকে বলতে হবে হ্যা! এর মানে সে আবারও প্রমান করতে চাইল তার যীষু আমাদের মুহাম্মদ (সঃ) এর চেয়ে এক দর্জা উপরে।



এরপর শেষ জয় পরাজয়ের খেলা, “নক আউট ব্লো”। সে বলবে, আপনি কি মনে করেন না, যে আল্লাহর এ সব কিছু করার ব্যাপারে কোন না কোন কারন অবশ্য ই ছিল? তিনি বিনা কারনে কিছুই করেন না? এই যে গত কালই গেল আপনাদের ঈদ উল আযহা, কোরবানির ঈদ, কোরবানির জন্য আপনারা খুজেছেন এমন একটা মেষ, ছাগল বা গরু, যার কোন ত্রুটি নাই বা দোষ নাই, কান কাটা নয়, শিং ভাঙ্গা নয়, অন্ধ নয়, খোড়া নয়, আরে ভাই আপনাদের কোরবানি, আপনারা সব সময় খুঁজে বের করেন একটা নিখুত পশু, ঠিক কি না?



আপনাকে বলতে হবে হ্যা! তাই। আচছা যদি সর্ব শক্তিমান আল্লাহ তার সৃষ্টির জন্য কোরবানি করতে চান, তিনি কি খুজবেন? দুনম্বরি কোন কিছু? তিনি কি তাই কোরবেন? সেরা কিছু কোরবানি না করে দুনম্বরি কিছু কোরবেন? না তা কেন কোরবেন? স্বাভাবিক কথা। কে তাহলে সেই দুনম্বরি? আমাদের নবীএ-করিম (সঃ) ।



এখন তার সাথে যুক্তিতে আসেন।যুক্তি খাটান। সেই ব্যাক্তির সাথে পারলে তর্কে আসুন। আপনারা হয়ে গেলেন ভালর মধ্যে দ্বিতীয়।



অবশেষে ঐ লোক চলে যাবে, এই বলে যে, ঠিক আছে আপনার সাথে আগামী সপ্তাহে আবার কথা হবে। আর সে আমাদের সবার মাঝে এই ভাবেই চালাতে থাকবে তার কর্ম কান্ড।



এত সব বিষয়ের প্রত্তুত্তর বা আমাদের অনূকুলে এর সমাধান খুব ই সহজ। সত্যি বলছি একেবারে সরল সোজা। আসলে আমাদের দরকার কিছুটা পূর্ব প্রস্তুতি। যা আমাদের নাই। সমস্যা হল আমরা নিজেরা প্রস্তুতি গ্রহন করি না। আমাদের দৈনন্দিন প্রয়োজনের মধ্যে এ সব বিষয় নাই। আমরা জানি অনেক কিছু,যেমন অজু, একেবারে সব কিছু খুটিনাটি বিষয় আমরা জানি। কটা সুন্নত, কটা ওয়াজিব, কটা মুস্তাহাব আছে, ওজুর মধ্যে তা আমরা জানি। দাড়ি কতটুকু লম্বা রাখতে হবে তা অমরা জানি। অমরা জানি দাড়ি লম্বা হতে হবে। মুচ ছাটতে হবে তা ও জানি। আমাদের অনেক বন্ধু আছেন, যাদের দাড়ি লম্বা আছে, আলহাম্দুলিল্লাহ, কিন্তু উনারা মুচ শেভ করেন। যার ফলে কেউ কেউ আবার তাঁদেরকে সংশোধন করতে মনে করিয়ে দেন, মুচ শেভ করা যাবে না, মুচ ছাঁটতে হবে। আমিও এক সময় এমন করতাম, মুচ শেভ করে ফেলতাম। আমাকে একদিন একজন বললেন, আপনি জানেন? আমাদের নবী করিম (সঃ) বলেছেন যে, তোমরা তোমাদের মুচ ছেঁটে রাখবে, কখনও চাঁচবে না। এ ধরনের অনেক কিছু অবশ্যই আপনারা লখ্য করে থাকবেন, অনেক কিছুই দেখে থাকবেন, অনেকেই আছেন জেনারা খুবই সতর্ক এসব বিষয়ে। আপনারা অনেক বিষয়ে খুটিনাটি সব কিছু জানেন।



কিন্তু সেই সব বিষয়ে না। এমন অনেক ব্যাপার আছে যা সম্পুর্ন ভিন্ন প্রকৃতির বিষয়। এগুলি ভিন্ন প্রকৃতির জ্ঞান, যুক্তি তর্ক।


 আমার দেশ আমার অহংকার, 

তার নাম বাংলাদেশ....................

শনিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৪

More than 100 Keyboard Shortcuts must read & Share:

Keyboard Shortcuts (Microsoft Windows)
1. CTRL+C (Copy)
2. CTRL+X (Cut)
... 3. CTRL+V (Paste)
4. CTRL+Z (Undo)
5. DELETE (Delete)
6. SHIFT+DELETE (Delete the selected item permanently without placing the item in the Recycle Bin)
7. CTRL while dragging an item (Copy the selected item)
8. CTRL+SHIFT while dragging an item (Create a shortcut to the selected item)
9. F2 key (Rename the selected item)
10. CTRL+RIGHT ARROW (Move the insertion point to the beginning of the next word)
11. CTRL+LEFT ARROW (Move the insertion point to the beginning of the previous word)
12. CTRL+DOWN ARROW (Move the insertion point to the beginning of the next paragraph)
13. CTRL+UP ARROW (Move the insertion point to the beginning of the previous paragraph)
14. CTRL+SHIFT with any of the arrow keys (Highlight a block of text)
SHIFT with any of the arrow keys (Select more than one item in a window or on the desktop, or select text in a document)
15. CTRL+A (Select all)
16. F3 key (Search for a file or a folder)
17. ALT+ENTER (View the properties for the selected item)
18. ALT+F4 (Close the active item, or quit the active program)
19. ALT+ENTER (Display the properties of the selected object)
20. ALT+SPACEBAR (Open the shortcut menu for the active window)
21. CTRL+F4 (Close the active document in programs that enable you to have multiple documents opensimultaneously)
22. ALT+TAB (Switch between the open items)
23. ALT+ESC (Cycle through items in the order that they had been opened)
24. F6 key (Cycle through the screen elements in a window or on the desktop)
25. F4 key (Display the Address bar list in My Computer or Windows Explorer)
26. SHIFT+F10 (Display the shortcut menu for the selected item)
27. ALT+SPACEBAR (Display the System menu for the active window)
28. CTRL+ESC (Display the Start menu)
29. ALT+Underlined letter in a menu name (Display the corresponding menu) Underlined letter in a command name on an open menu (Perform the corresponding command)
30. F10 key (Activate the menu bar in the active program)
31. RIGHT ARROW (Open the next menu to the right, or open a submenu)
32. LEFT ARROW (Open the next menu to the left, or close a submenu)
33. F5 key (Update the active window)
34. BACKSPACE (View the folder onelevel up in My Computer or Windows Explorer)
35. ESC (Cancel the current task)
36. SHIFT when you insert a CD-ROMinto the CD-ROM drive (Prevent the CD-ROM from automatically playing)
Dialog Box - Keyboard Shortcuts
1. CTRL+TAB (Move forward through the tabs)
2. CTRL+SHIFT+TAB (Move backward through the tabs)
3. TAB (Move forward through the options)
4. SHIFT+TAB (Move backward through the options)
5. ALT+Underlined letter (Perform the corresponding command or select the corresponding option)
6. ENTER (Perform the command for the active option or button)
7. SPACEBAR (Select or clear the check box if the active option is a check box)
8. Arrow keys (Select a button if the active option is a group of option buttons)
9. F1 key (Display Help)
10. F4 key (Display the items in the active list)
11. BACKSPACE (Open a folder one level up if a folder is selected in the Save As or Open dialog box)
Microsoft Natural Keyboard Shortcuts
1. Windows Logo (Display or hide the Start menu)
2. Windows Logo+BREAK (Display the System Properties dialog box)
3. Windows Logo+D (Display the desktop)
4. Windows Logo+M (Minimize all of the windows)
5. Windows Logo+SHIFT+M (Restorethe minimized windows)
6. Windows Logo+E (Open My Computer)
7. Windows Logo+F (Search for a file or a folder)
8. CTRL+Windows Logo+F (Search for computers)
9. Windows Logo+F1 (Display Windows Help)
10. Windows Logo+ L (Lock the keyboard)
11. Windows Logo+R (Open the Run dialog box)
12. Windows Logo+U (Open Utility Manager)
13. Accessibility Keyboard Shortcuts
14. Right SHIFT for eight seconds (Switch FilterKeys either on or off)
15. Left ALT+left SHIFT+PRINT SCREEN (Switch High Contrast either on or off)
16. Left ALT+left SHIFT+NUM LOCK (Switch the MouseKeys either on or off)
17. SHIFT five times (Switch the StickyKeys either on or off)
18. NUM LOCK for five seconds (Switch the ToggleKeys either on or off)
19. Windows Logo +U (Open Utility Manager)
20. Windows Explorer Keyboard Shortcuts
21. END (Display the bottom of the active window)
22. HOME (Display the top of the active window)
23. NUM LOCK+Asterisk sign (*) (Display all of the subfolders that are under the selected folder)
24. NUM LOCK+Plus sign (+) (Display the contents of the selected folder)
MMC Console keyboard shortcuts
1. SHIFT+F10 (Display the Action shortcut menu for the selected item)
2. F1 key (Open the Help topic, if any, for the selected item)
3. F5 key (Update the content of all console windows)
4. CTRL+F10 (Maximize the active console window)
5. CTRL+F5 (Restore the active console window)
6. ALT+ENTER (Display the Properties dialog box, if any, for theselected item)
7. F2 key (Rename the selected item)
8. CTRL+F4 (Close the active console window. When a console has only one console window, this shortcut closes the console)
Remote Desktop Connection Navigation
1. CTRL+ALT+END (Open the Microsoft Windows NT Security dialog box)
2. ALT+PAGE UP (Switch between programs from left to right)
3. ALT+PAGE DOWN (Switch between programs from right to left)
4. ALT+INSERT (Cycle through the programs in most recently used order)
5. ALT+HOME (Display the Start menu)
6. CTRL+ALT+BREAK (Switch the client computer between a window and a full screen)
7. ALT+DELETE (Display the Windows menu)
8. CTRL+ALT+Minus sign (-) (Place a snapshot of the active window in the client on the Terminal server clipboard and provide the same functionality as pressing PRINT SCREEN on a local computer.)
9. CTRL+ALT+Plus sign (+) (Place asnapshot of the entire client window area on the Terminal server clipboardand provide the same functionality aspressing ALT+PRINT SCREEN on a local computer.)
Microsoft Internet Explorer Keyboard Shortcuts
1. CTRL+B (Open the Organize Favorites dialog box)
2. CTRL+E (Open the Search bar)
3. CTRL+F (Start the Find utility)
4. CTRL+H (Open the History bar)
5. CTRL+I (Open the Favorites bar)
6. CTRL+L (Open the Open dialog box)
7. CTRL+N (Start another instance of the browser with the same Web address)
8. CTRL+O (Open the Open dialog box,the same as CTRL+L)
9. CTRL+P (Open the Print dialog box)
10. CTRL+R (Update the current Web page)
11. CTRL+W (Close the current window)

Hey! It's My Twitter..........

Hey Guys! Can you follow me???

রবিবার, ১ জুন, ২০১৪

কিছু কি বলার আছে??

এটার জন্য আপনি কি বলবেন????
সবাই অবশ্যই পোষ্টি পড়বেন........................

রবিবার, ১১ মে, ২০১৪

এক লোভি মানুষকে এক ছোট পাখির তিনটা উপদেশ!!

এক লোভি মানুষকে এক ছোট পাখির তিনটা উপদেশ!!!
একবার এক শিকারি ছোট্ট একটি পাখি ধরে ফেললো।
***পাখিটি খুব বুদ্ধিমান ছিলো। পাখিটি শিকারির খুব প্রশংসা করতে লাগলো যে, তুমি এতবড় শিকারি! জীবনে অনেক বাঘ মেরেছো, অনেক ভাল্লুক মেরেছো, এই করেছো, সেই করেছো।
আমি একটা ছোট্ট পাখি, আমার ওজন ১০০ গ্রামও না, আমাকে খেয়ে তুমি কী করবে?

আমাকে খেলে তো তোমার পেটের একটা কোনাও ভরবে না। তার চেয়ে বরং আমাকে ছেড়ে দাও।

তোমাকে এমন তিনটি মূল্যবান বাণী শোনাবো যা তোমার সারাজীবন কাজে লাগবে।
এমনভাবে সে কথাবার্তা বলছিলো যে শিকারির মন গলে গেল। কারণ প্রসংশা পেতে সবাই পছন্দ করে।
আরেক জনকে গলানোর সবচেয়ে সহজ উপায় হচ্ছে প্রসংশা করা।
লোকটি ভেবে দেখলো, ঠিকই তো। এত ছোট পাখি খেয়ে কোনো লাভ নেই। তার চেয়ে শুনি, পাখিটা কী বলতে চায়।
হয়তো এতে আমার লাভ বেশি হবে।
শিকারি রাজি হওয়ায় পাখিটি বললো,
আমি প্রথম বাক্যটি বলবো তোমার হাতের ওপর বসে,
দ্বিতীয় বাক্যটি বলবো এই গাছের ডালে বসে,
তৃতীয় বাক্যটি বলবো গাছের মগডালে বসে।
শিকারি বললো, ঠিক আছে।
পাখি বললো, ১তম উপদেশ হল ‘কখনো অবাস্তব কল্পনা করো না, যা অবাস্তব সেটা কখনো বিশ্বাস করো না’।
শিকারি বললো, খুব ঠিক কথা। সত্যিই তাই।
কখনো অবাস্তব কথায় বিশ্বাস করতে নেই।
পাখি বললো, এবার আমাকে গাছের ডালে যেতে দাও।
আমি দ্বিতীয় বাক্যটি বলবো। শিকারি ছেড়ে দিলো।
গাছের ডালে উঠে পাখি বললো, ২য় উপদেশ
‘যা হাতছাড়া হয়ে গেল তা নিয়ে কখনো আফসোস করো না।’
শিকারি বললো, এটাও ঠিক। যা আর আমার নেই, তা নিয়ে আফসোস করা তো বোকামি।
পাখি এবার মগডালে উঠলো। শিকারি বললো, এবার তৃতীয় উপদেশটি বল। পাখি বললো,
তৃতীয়টি বলার আগে দেখে নিই, আগের দুটি উপদেশের শিক্ষা তোমার
জীবনে কাজে লাগিয়েছো কি না

পাখিটি বললো, আমার পেটে আছে ২০০ গ্রাম ওজনের একটি মুক্তো।
শুনে শিকারি খুব আফসোস শুরু করলো।
হায় হায়! এ কী করলাম আমি! এভাবে হাতছাড়া করলাম ধনী হওয়ার এত সহজ সুযোগ! বলেই পাখিকে ধরার ব্যর্থ চেষ্টায় ওপরের দিকে লাফাতে লাগলো।
কিন্তু পাখি তো তখন মগডালে।
পাখিটি হাসলো। বললো, দেখ, আমি আগেই বলেছিলাম, অবাস্তব
কথা কখনো বিশ্বাস করো না।
আমার ওজনই ১০০ গ্রাম। আমার ভেতরে ২০০ গ্রামের
মুক্তো থাকবে কীভাবে?
বলেছিলাম, যা হাতছাড়া হয়ে গেল তা নিয়ে কখনো আফসোস করো না।
কিন্তু তুমি তা-ই করছো।
তোমাকে আর কোনো উপদেশ দেয়া অর্থহীন।
কারণ অধিকাংশ মানুষের মতো তুমিও উপদেশ কান দিয়ে শুনেছো।
কিন্তু তা থেকে শিক্ষা নাও নি। তোমার মতো বোকা ও লোভীদের কারণেই প্রতারকরা প্রতারণা করার সুযোগ পায়।

সোমবার, ৭ এপ্রিল, ২০১৪

নামাজে মনোযোগী হবার একটি পদ্ধতি।

নামাজে মনোযোগী হবার একটি পদ্ধতি।

Welcome to my blog!!!

আমরা যখন নামাজে দাড়াই তখন শয়তান আমাদের অন্তরে নানারকম প্ররোচনা দিয়ে নামাজে অমনোযোগী করে তুলার চেষ্টা করে, এতে অনেকের বেলায় শয়তান সফল হয় আবার অনেকের বেলায় শয়তান সফল হতে পারেনা।
এর থেকে বাঁচতে হলে ও নামাজ শুদ্ধভাবে পড়তে হলে আমরা যদি নামাযে যাহা পড়ি মেশিনের মতো না পড়ে বুঝে পড়ার চেষ্টা করতাম তাহলে ইন শা আল্লাহ্ শয়তান আমাদের নামাজকে নষ্ট করতে সফল হতে পারবে না ....
আজ আপনাদেরকে কিভাবে সুরা ফাতিহাতে মনোযোগ রাখবেন সেই সম্পর্কে আলোচনা করব ।
আপনাদের নিকট আমার অনুরোধ, যদি লেখাটি আপনার উপকারে আসে তাহলে অন্তত আপনার বন্ধু কিংবা আপনজনদের শেয়ার করবেন।
আল্লাহ এর জন্য আপনাকে উত্তম বিনিময় প্রদান করবেন।

*******নামাযে সূরা ফতিহা পড়ার সময় এ হাদীসটির কথা খেয়ালে রাখলে এক একটি আয়াত পড়ার পর আল্লাহর প্রেমময় জবাবটা মনের কানে শুনবার জন্য বান্দাহকে থামতেই হবে। আল্লাহর জবাবের যে তৃপ্তি ও শান্তি তা তারাই বোধ করতে পারে, যারা আয়াতগুলো ধীরে ধীরে মজা নিয়ে পড়ে।
এ হাদীসে মহব্বতের এমন অগ্নিকণা রয়েছে যে,....................
বান্দার দিলে ঈমানের বারুদ থাকলে এবং নামাযে সূরা ফাতিহা পড়ার সময় আল্লাহর আবেগময় কথার দিকে খেয়াল করলে আল্লাহর প্রতি ভালবাসার এমন আগুন জ্বলে উঠবে যে, এই জবাবে বান্দাহ নিজেকে মনিবের অতি কাছে বলে অনুভব করবে।
আউযুবিল্লাহ ও বিসমিল্লাহ.............. পড়ে সূরা ফাতিহা তিলাওয়াত করতে হবে।
হাদীসে আছে যে সূরা ফাতিহার এক এক অংশ তিলাওয়াত করার সাথে সাথে আল্লাহ এর জবাব দেন। এ হাদীসের কথাগুলো এমন আবেগময় ভাষায় বলা হয়েছে যা বান্দাহর মনে গভীর দোলা দেয়।

হাদীসটি নিম্নরূপ :

হাদিসটির অর্থ : হযরত আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত.....
তিনি বলেলন, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি :
””আল্লাহ তাআলা বলেন, আমি নামাযকে আমার ও আমার বান্দাহর মধ্যে দুভাগে ভাগ করেছি। আর আমার বান্দাহ আমার নিকট যা চায় তাই পাবে।
বান্দাহ যখন বলে, ‘‘আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামীন।”
অর্থ :যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহ তাআলার যিনি সকল
সৃষ্টি জগতের পালনকর্তা।
তখন আল্লাহ বলেন ......“আমার বান্দাহ আমার প্রশংসা করল।”
যখন বান্দাহ বলে “আর রাহমানির রাহীম”।
অর্থ :যিনি নিতান্ত মেহেরবান ও দয়ালু।
তখন আল্লাহ বলেন “আমার বান্দাহ আমার গুণ গাইল” !!!!

যখন বান্দাহ বলে “মালিকি ইয়াওমিদ্দীন ”
অর্থ :যিনি বিচার দিনের মালিক।
তখন আল্লাহ বলেন “আমার বান্দাহ আমার গৌরব বর্ণনা করল”

যখন বান্দাহ বলে, “ইয়্যাকা না বুদু ওয়া ইয়্যাকা নাসতাঈন
অর্থ :আমরা একমাত্র তোমারই ইবাদত করি এবং শুধুমাত্র তোমারই সাহায্য প্রার্থনা করি।
তখন আল্লাহ বলেন “এ বিষয়টা আমার ও আমার বান্দাহর মাঝেই রইল । আর আমার বান্দাহর জন্য তাই যা সে চাইল (অর্থাৎ আমার ও আমার বান্দাহর মধ্যে এ চুক্তি হলো যে সে আমার কাছে চাইবে, আর আমি তাকে দেব)।


যখন বান্দাহ বলে “ইহদিনাস সিরাতাল মুস্তাকীম সিরাতাল্লাযীনা আন আমতা আলাইহিম গাইরিল মাগদূবি আলাইহিম ওয়ালাদ দোয়াললীন”
অর্থ :আমাদেরকে সরল পথ দেখাও, সে সমস্ত লোকের পথ, যাদেরকে তুমি নেয়ামত দান করেছ। তাদের পথ নয়, যাদের প্রতি তোমার গজব নাযিল হয়েছে এবং যারা পথভ্রষ্ট হয়েছে।"
তখন আল্লাহ বলেন ...........“এটা আমার বান্দাহর জন্যই রইল আর আমার বান্দাহর জন্য তা ই যা সে চাইল।”
আমি আপনাদের সাহায্যের  জন্য আরও একটি ভিডিও এড করলাম.............





You are watching "How to perfect your prayers"

This is a mail link:


সবগুলো ভালভাবে মনে রাখতে হবে যাতে আমরা আমাদের নামাজে পড়তে পারি।

রবিবার, ৬ এপ্রিল, ২০১৪

প্রশ্ন: সিয়াম সম্বন্ধে

প্রশ্ন:
Welcome to my blog!!

Hey frd !! How are you??

I am fine




আমি একদিন ঘুম থেকে দেরিতে উঠি এবং তখনো সাহরীর সময় বাকি আছে ধারণা করে সাহরী খেতে থাকি। খাওয়া শেষে জানতে পারি তখন সুবহে সাদিক হয়ে গেছে। জানার বিষয় হল, উপরোক্ত কারণে আমার রোযা সহীহ হবে কি না? না হলে এক্ষেত্রে আমার করণীয় কি? জানালে কৃতজ্ঞ হব।

উত্তর:

প্রশ্নে বর্ণিত অবস্থায় আপনার রোযাটি ভেঙ্গে গেছে, তা সহীহ হয়নি। তাই আপনাকে রোযাটির কাযা আদায় করে নিতে হবে। কাফফারা আদায় করতে হবে না।
 
উল্লেখ্য যে, রমযানের কোন রোযা নষ্ট হয়ে গেলেও নিয়ম হল, ঐ দিন ইফতারের পূর্ব পর্যন্ত রোযাদারের ন্যায় কাটাবে। বিশুদ্ধ বর্ণনায় এসেছে, তাবেয়ী মুজাহিদ রাহ. বলেন, যে ব্যক্তি এখনো রাত্র বাকি আছে ভেবে সাহরী খেতে থাকে, অতপর স্পষ্ট হয় যে, তখন সুবহে সাদিক হয়ে গেছে, সে যেন তার রোযাটিকে পূর্ণ করে (মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা ৬/১৪৯-১৫০, হাদীস : ৯১৩২) এবং হযরত সায়ীদ ইবনে যুবাইর রাহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যদি কেউ সুবহে সাদিক হওয়ার পর খানা খেয়ে ফেলে তখন সে যেন ঐ দিন পানাহার থেকে বিরত থাকে এবং অন্য একদিন একটি রোযা কাযা করে নেয়।
-মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা, হাদীস : ৯১৩৪; সুনানে বায়হাকী ৪/২১৬; কিতাবুল আসল ২/১৮৭; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৩/৩৫৭; আদ্দুররুল মুখতার ২/৪০৫.
 আমার দেশ আমার অহংকার, 

তার নাম বাংলাদেশ....................

 

******কিশোরী মেয়ে ও তার বুদ্ধিমতি মা*****

******আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু*******

কিশোরী মেয়ে ও তার বুদ্ধিমতি মা :-

রূকাইয়া ইসলাম। প্রাণ চাঞ্চল্যে ভরপুর এক কিশোরী। নবম শ্রেণীতে পড়ে ।
পড়াশুনায় যেমন মেধাবী তেমনি দুষ্টুমিতেও কম যায়না। বাড়ির সবাইকে দুষ্টুমিতে মাতিয়ে রাখে। প্রাকৃতিক নিয়মেই হঠাৎ করে তার শারীরিক পরিবর্তন শুরু হতে লাগল। ঠিকরে বেরুতে লাগল সৌন্দর্য।


প্রতিদিন পায়ে হেঁটে স্কুলে যাওয়া-আসা করত । সাথে থাকত তার প্রতিবেশী কয়েকটি মেয়ে । একসাথে গল্প করতে করতে বাসায় ফিরত । প্রতিদিনের মত সে স্কুল থেকে ফিরছিল। কিন্তু আজ তার সাথে কেউ ছিলনা। রাস্তার পাশে এক ছেলে এসময় দাঁড়িয়ে থাকতো কিন্তু কিছু বলত না । আজ তাকে একা আসতে দেখে ছেলেটি তার কাছে এসে বলল - তুমি না অনেক সুন্দর ! তোমাকে আমার অনেক ভাল লাগে । একথা বলে ছেলেটি দ্রুত চলে যায়। সুমাইয়া হঠাৎ একথা শুনে একটু থমকে দাড়ায়। কিছু বুঝতে পারেনা। একসময় সম্বিৎ ফিরে পেয়ে দ্রুত বাসায় ফিরে আসে।
বাসায় ফিরে স্কুল ব্যাগ রেখে ড্রেস পরিবর্তন না করেই আয়নার সামনে গিয়ে নিজেকে দেখতে লাগল ।
সুমাইয়ার মা ব্যাপারটি লক্ষ্য করলেন । ভাবলেন মেয়েতো কখনও এরকম করেনা।
তাই তিনি মেয়ের কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করলেন -
- মামনি, কি ব্যাপার ? কিছু হয়েছে ?- আচ্ছা আম্মু, আমি কি দেখতে অনেক সুন্দর ?

মেয়ের একথায় মা একটু থমকে গেলেন । ভাল করে মেয়ের দিকে তাকালেন । সত্যিই মেয়ে যে দিনে দিনে এত সুন্দর হয়ে উঠছে তা তো অত ভাল করে খেয়াল করা হয়নি ।

মা  -- একথা কেন মামনি ?
মেয়ে  - আজ স্কুল থেকে আসার পথে এক ছেলে আমাকে বলে আমি নাকি অনেক সুন্দর !
মা  -- ও আচ্ছা এই কথা !
মেয়ে  - বলনা আম্মু !!
মা  -- হুম তুমিতো অনেক সুন্দর হয়ে যাচ্ছ দিনে দিনে !! আচ্ছা এখন তুমি তাড়াতাড়ি পোষাক পরিবর্তন কর আর গোছল করে ফ্রেস হয়ে খাওয়া দাওয়া করে রেষ্ট নাও । বিকালে তোমাকে নিয়ে মার্কেটে যাব। তোমার জন্য কিছু জামা কাপড় কিনব ।
মেয়ে - আচ্ছা ঠিক আছে।

বিকেলে মার্কেট থেকে মেয়ের পছন্দমত থ্রীপিছ কিনে দিলেন । বাসায় এসে মেয়েকে নতুন জামা পরিয়ে সুন্দর করে সাজিয়ে দিলেন। আর মেয়েকে বললেন যাও তোমার আব্বুকে দেখিয়ে আস তোমাকে কেমন সুন্দর লাগছে । নতুন জামা পড়ে খুব খুশিমনে আব্বুর কাছে গিয়ে সালাম করল। আর বলল -
মেয়ে  - আব্বু দেখতো আমাকে কেমন লাগছে ?
বাবা - সুবহানআল্লাহ ! তোমাকে অনেক সুন্দর লাগছে । এত সুন্দর করে তোমাকে কে সাজিয়ে দিল ?
মেয়ে  - মামনি !
****তার বাবা মানিব্যাগ থেকে দুটো পাঁচশত টাকার নোট বের বরে মেয়ের হাতে দিয়ে বলল -

বাবা -- এই পাঁচশত টাকা হল তোমার সালামী আর পাঁচশত টাকা হল তোমাকে এত সুন্দর করে সাজিয়ে দেয়ার জন্য তোমার আম্মুকে আমার তরফ থেকে বকশীশ।

মেয়ে খুশি মনে টাকা নিয়ে আম্মুর কাছে গেল । আম্মুকে টাকা দিল । আম্মু মেয়েকে জড়িয়ে ধরে কপালে চুমু খেলেন । তারপর পাশে বসিয়ে বললেন -

মা  -- তোমাকে যদি কেউ কিছু উপহার দেয় তাহলে তুমি সেটা কি কর ?
মেয়ে -- যত্ন করে রেখে দিই ।
মা  -- আচ্ছা, আল্লাহ তাআলা আমাদের মানুষকে সুন্দর করে সৃষ্টি করেছেন । তোমাকে এত সৌন্দর্য দান করেছেন । এটা কি তোমাকে আল্লাহর তরফ থেকে দেয়া উপহার না ?
মেয়ে -- হ্যাঁ ।
মা  -- তাহলে এই উপহার যত্ন করে রাখা দরকার না ?
মেয়ে -- হ্যাঁ অবশ্যই ।
মা  -- বলতো কিভাবে যত্ন করে রাখবে ?
মেয়ে -- কিভাবে আবার !
মা  -  চেহারার যত্ন নিব, রোদে যাবনা, ধূলাবালি থেকে দূরে থাকব, স্নো ব্যবহার করব।
মেয়ে -- হুম ।
মেয়ে -আর কি করবে ?
মেয়ে - আর কি ?
মা  - শোন মামনি, আল্লাহ তাআলা যেমন মানুষকে সৌন্দর্য দান করেছেন, ঠিক তেমনি সৌন্দর্য রক্ষণাবেক্ষণ করার জন্য ও কিছু নির্দেশ দিয়েছেন ।
আল্লাহ তাআলা বলেছেন - “আর মুমিন নারীদেরকে বল, তারা তাদের দৃষ্টিকে সংযত রাখবে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হিফাযত করবে। আর যা সাধারণত প্রকাশ পায় তা ছাড়া তাদের সৌন্দর্য তারা প্রকাশ করবে না। তারা যেন তাদের ওড়না দিয়ে বক্ষদেশকে আবৃত করে রাখে। আর তারা যেন তাদের স্বামী, পিতা, শ্বশুর, নিজদের ছেলে, স্বামীর ছেলে, ভাই, ভাই-এর ছেলে, বোনের ছেলে, আপন নারীগণ, তাদের ডান হাত যার মালিক হয়েছে, অধীনস্থ যৌনকামনামুক্ত পুরুষ অথবা নারীদের গোপন অঙ্গ সম্পর্কে অজ্ঞ বালক ছাড়া কারো কাছে নিজদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে। আর তারা যেন নিজদের গোপন সৌন্দর্য প্রকাশ করার জন্য সজোরে পদচারণা না করে। হে মুমিনগণ, তোমরা সকলেই আল্লাহর নিকট তাওবা কর, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার।' (সূরা আন-নূর:৩১)


আল্লাহ তাআলা আরও বলেন - 'হে নবী, তুমি তোমার স্ত্রীদেরকে, কন্যাদেরকে ও মুমিনদের নারীদেরকে বল, ‘তারা যেন তাদের জিলবাবের কিছু অংশ নিজেদের উপর ঝুলিয়ে দেয়, তাদেরকে চেনার ব্যাপারে এটাই সবচেয়ে কাছাকাছি পন্থা হবে। ফলে তাদেরকে কষ্ট দেয়া হবে না। আর আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।'(সূরা আহযাব-৫৯)

“'যদি তোমরা তাকওয়া অবলম্বন কর, তবে (পরপুরুষের সাথে) কোমল কন্ঠে কথা বলো না, তাহলে যার অন্তরে ব্যধি রয়েছে সে প্রলুব্ধ হয়। আর তোমরা ন্যায়সংগত কথা বলবে।'” (সূরা আহযাব-৩২)

এই যে, আল্লাহ তাআলা কতগুলো নির্দেশ দিয়েছেন এগুলো মেনে চলাকে বলা হয় পর্দা করা । আর প্রত্যেক মুসলিমের জন্য পর্দা করা ফরজ ।


মেয়ে -- তাহলে তো আমাকে বোরকা পড়তে হবে ।
- হ্যাঁ অবশ্যই।
মেয়ে -- আচ্ছা ঠিক আছে কিন্তু আমার পছন্দ মত বোরকার কাপড় কিনে দিতে হবে ।
মা  -- (মেয়েকে গালে ধরে একটু আদর করে) ঠিক আছে তোমার পছন্দ মত কাপড় কিনে দিব।
মেয়ে -- আচ্ছা বলত মামনি বাড়িতে ও কি বোরকা পড়ে থাকবে নাকি ?
মা  -- না,, বাড়িতে বড় ওড়না পড়ব ।
মেয়ে -- ভেরি গুড !!
মা  -   এইতো আমার মামনি সব কিছু বুঝে ফেলেছে ।
****আর শোন রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় খুব শান্তভাবে রাস্তার এক পাশ দিয়ে চলাচল করবে । স্কুলে কোন ছেলের সাথে কথা বলার প্রয়োজন হলে মিস্টি করে বা কোমল কন্ঠে কথা বলবেনা । অযথা তাদের সাথে গল্প করবেনা । ঠিক আছে ?
মেয়ে -- ঠিক আছে ।
মা  -- আল্লাহ তোমাকে সবকিছু মেনে চলার তৌফিক দান করুন ।
আমিন ।।







আমার দেশ আমার অহংকার,
তার নাম বাংলাদেশ...............